এসআইআর-এ বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার গভীর রাতে তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন নামের মধ্যে ৩২ লক্ষের কিছু বেশি ব্যক্তিকে ‘যোগ্য’ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাকিদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বাদ পড়া ব্যক্তিরা কারা—তাঁরা কি মৃত, না কি অবৈধ—তা নিয়ে কমিশনের তরফে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা না মেলায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের পাশে দাঁড়িয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর ফলে বহু যোগ্য ভোটার বঞ্চিত হতে পারেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার ফলেই ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে অন্তত ৩২ লক্ষ নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় ৫৮ লক্ষ আবেদন খতিয়ে দেখা হয়নি।
বুধবার সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও তিনি এই ইস্যুতে সরব হন। সার্ভে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত—এমন নির্দেশ আগেই সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ট্রাইবুনাল প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটার তালিকা স্থির করে দেওয়ার অর্থ হল বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পরে নাম যুক্ত হলেও তারা ভোট দিতে পারবেন না—এটাই তাঁর আশঙ্কা। তাই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবারও আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি সওয়াল করে আলোচনায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই দৃঢ় অবস্থানের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।