বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে পরপর তিনটি জনসভা করেন তিনি। প্রতিটি সভা থেকেই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। বিশেষ করে মাটিগাড়ার সভা থেকে এসআইআর ইস্যুতে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেছেন, আদিবাসী, রাজবংশী ও বাঙালিদের টার্গেট করে এই কাজ চলছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এনআরসি চালুর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, মানুষের অধিকার রক্ষায় তৃণমূল লড়াই চালিয়ে যাবে। সভামঞ্চ থেকে মমতা অভিযোগ করেছেন, এসআইআরের নামে বহু সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘কত মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, কত আদিবাসী, রাজবংশী, বাঙালির নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা ভোট চাইছে।’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এটা কি বিজেপির জমিদারি? না, এটা জনতার জমিদারি।’

মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এনআরসি চালুর পথ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘আজ এসআইআর, কাল এনআরসি করবে। মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর চেষ্টা হবে। আমি থাকতে তা হতে দেব না।’ পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এসআইআরের কারণে।
এদিন ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের প্রসঙ্গেও তোপ দাগেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, আচমকা বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে যায়। ‘হঠাৎ দেখি সবার নাম উধাও। আমার নিজের নামও অ্যাডজুডিকেশনে চলে গিয়েছে’। যদিও নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে ‘টেকনিক্যাল ফল্ট’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন, তা মানতে নারাজ মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা শুধুই হ্যাকিং, না এর পিছনে অন্য কিছু আছে? মানুষকে জানতে হবে।’

মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিভ্রাট নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর মতে, বৈধ ভোটারদেরও ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে দেখানো হচ্ছিল। এই ঘটনাক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বুধবারের সভায় মমতা মা-বোনেদের বিশেষভাবে বুথ পাহারার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা, ‘এসআইআরের বদলা একটা করে ভোটে দিতে হবে।’ একই সঙ্গে যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অন্যদিকে, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে কিছু নেই, আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। তবে আমার কাছে মানুষ আছে।’

উত্তরবঙ্গের জনসভা থেকে স্পষ্ট, ভোটের আগে এসআইআর ইস্যুকেই বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তৃণমূল। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথে বুথে সংগঠনকে শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। মমতার বার্তা ভোটারদের উপর কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই এখন দেখার।