বঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’পক্ষই ভোটের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। রবিবার শিলিগুড়ির জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী কার্যত মমতার ভাষাতেই দাবি করেন, বাংলার ২৯৪টি আসনেই তিনিই একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে তাঁকে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সিউড়ির জনসভা থেকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যদি মোদী সত্যিই বাংলার সব আসনে প্রার্থী হতে চান, তবে আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা ঘোষণা করা উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মোদী কোন পদটি বেছে নেবেন—প্রধানমন্ত্রী না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী? একই সঙ্গে তিনি মোদীকে ‘বহিরাগত’ বলেও আক্রমণ করেন এবং দাবি করেন, আগে দিল্লির দায়িত্ব সামলানো উচিত, তারপর বাংলার দিকে নজর দেওয়া।
এর পাশাপাশি, মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলার দিকে কেউ খারাপ নজরে তাকালে তার জবাব দেবে রাজ্যের মানুষই। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। ‘মন কি বাত’ প্রসঙ্গ টেনেও তিনি সমালোচনা করেন, অভিযোগ তোলেন যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। সভা থেকে মমতা আবারও জোর দিয়ে বলেন, প্রার্থী নয়, তাঁকেই সামনে রেখে ভোট দিতে হবে। মানুষের ভালোবাসাকেই ভরসা করে তৃণমূল আবারও ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করছে বলেও তিনি জানান।