বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে যথাযথ সম্মান দেয় না এবং মাতৃভাষার প্রতি তাদের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। এ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের নেতা-নেত্রীরা বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে। এবার সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদীর বক্তৃতার ধরন নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন শ্রীরামপুরে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জনমানসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার যে প্রভাব, তার অনেকটাই যান্ত্রিক কারসাজি, টেলিপ্রম্পটার নির্ভর। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সহজ ভাষায় তিনি বোঝান, কীভাবে একটি কাচের মতো যন্ত্রের মাধ্যমে লেখা দেখে বক্তৃতা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কাগজে দু-একটা পয়েন্ট লিখে রাখি, যাতে কোনও সংখ্যা ভুলে না যাই।’ নাম না করে মোদীকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘ওদের সামনে একটা কাঁচ থাকে, কাঁচটা চশমার থেকেও হালকা। আপনারা দেখতে পাবেন না।
তাতে এক লাইন করে বড় বড় করে লেখা আসে। এদিকেও তাকানো যায়, ওদিকেও তাকানো যায়। সেটার নাম হচ্ছে টেলিপ্রম্পটার। আজকালকার ছেলে-মেয়েরা জানে। আমি আগে ভাবতাম, এত ভাল ইংরেজি কী করে বলছেন তিনি। তার পরে একটা মিটিংয়ে গিয়ে দেখলাম। আমি সামনে বসেছিলাম, তখন দেখলাম সামনে টেলিপ্রম্পটার। সেটা দেখছে আর গড়গড় করে বলে যাচ্ছে।’
একই সঙ্গে এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের পরিবারের একটি রসিকতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিন ডেরেকের মা ডেরেককে বলছেন দেখ কি সুন্দর ইংরেজিতে বলছেন। তখন ডেরেক তাঁর মাকে বলে তুমি আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারছ না। আসলটা হল তাঁরা সব দেখে দেখে বলছেন।’
এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর অপব্যবহার নিয়েও এদিন সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এআই-এর মাধ্যমে এখন মানুষের কণ্ঠস্বর ও চেহারাও নকল করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানুষের সংবেদনশীলতা ও উপস্থিত বুদ্ধির বিকল্প নেই।
অন্যদিকে এদিন শ্রীরামপুরে সভা চলাকালীন হঠাৎ একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছুক্ষণের জন্য আতঙ্ক ছড়ায়। দর্শকাসনের কাছে আগুনের ফুলকি দেখা গেলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বক্তব্য থামিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, একটি বৈদ্যুতিক ত্রুটির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন,’এরকম হবে কেন? যিনি একাজ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’এ সব কিছু মিলিয়ে, এদিন শ্রীরামপুরে এই সভা থেকে ভাষা, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহ আরও একাধিক ইস্যুকেই সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।