বুধবার মমতার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সম্ভাবনা, থাকবে বহুত্ববাদের বার্তা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই কেন্দ্রে মুখোমুখি লড়াইয়ে করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে তাঁদের মনোনয়ন পর্ব ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, যা এই লড়াইকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নও শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করতে চলেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর মনোনয়নপত্রে ‘বহুত্ববাদ’ বা বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটানো হবে।

বুধবার আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মমতার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা, যেমন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, এবং দক্ষিণ কলকাতার নেতা দেবাশিস কুমার। তবে এ বারের বিশেষ দিক হল, মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকদের তালিকায় বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা।


এই তালিকায় থাকতে পারেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিম, তৃণমূল নেতা বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ। এর মাধ্যমে তৃণমূল একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে—সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সামাজিক ঐক্যের।

ভবানীপুর কেন্দ্রটি নিজেই একটি বহুমাত্রিক সামাজিক গঠনের প্রতিফলন। এখানে বাঙালিদের পাশাপাশি গুজরাতি, পঞ্জাবি, মারোয়ারি, জৈন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। এছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহু মানুষের উপস্থিতি এই এলাকাকে একপ্রকার ‘মিনি ইন্ডিয়া’ করে তুলেছে।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মনোনয়নে বহুত্ববাদের বার্তা তুলে ধরতে চাইছেন। মনোনয়নের দিন একটি বড় মিছিলের পরিকল্পনাও করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং ‘মেরুকরণ’ বনাম ‘বহুত্ববাদ’—এই বৃহত্তর আদর্শিক লড়াইও এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মমতার মনোনয়ন সেই বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনতে চলেছে।