২০০-র বেশি আসনে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা, আক্রান্তদের পুরস্কারের ঘোষণা

তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হবে। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার বিকেলে কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বার্তা দেন। সেই সঙ্গে প্রাক্তন ডিজি তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে গণনা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এটাই প্রথম তৃণমূলের কোনও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে চলেছেন রাজীব।

শুধু দমদম-ব্যারাকপুর নয়, রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা ধরে ধরে গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সব প্রার্থী, গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং কাউন্টিং এজেন্টরা।

তৃণমূল সূত্রে খবর, ওই বৈঠকেই গণনার দিন জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। সেখানে সাংগঠনিক জেলা ধরে ধরে পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকেই রাজীবের দায়িত্বের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন অভিষেক, এমনটাই তৃণমূল সূত্রে খবর।  ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অভিনেতা-সাংসদ দেবকে এবং মেদিনীপুরে সাংগঠনিক জেলার গণনা পর্যবেক্ষক করা হয়েছে জুন মালিয়াকে।


গত লোকসভা নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু আসনের জন্য গণনার কাজে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল তৃণমূল। অভিষেকের পরিকল্পনাতেই পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়েছিল। যেমন, তমলুক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে, আরামবাগের দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু সেন এবং বাঁকুড়া লোকসভায় গণনা পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন সমীর চক্রবর্তী। এবারও সেই একই পথে হাঁটলো তৃণমূল।

তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে মমতা ও অভিষেক কর্মীদের জানান, বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে দেখানো হয়েছে শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখার জন্য। তাঁরা এও জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। অভিষেক কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি নিজেরাও সরকার গঠনের বিষয়ে আশাবাদী নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়ো সমীক্ষার মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২১-এর চেয়েও ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল বেশি আসন পাবে বলে দাবি করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৈঠকের শুরুতেই দলীয় কর্মীদের ‘আপসহীন লড়াই’-এর জন্য অভিনন্দন জানান মমতা। দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়েও ফের সরব হন তিনি। আশ্বাস দেন যে, যাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ সহ্য করেছেন, দল তাঁদের পুরস্কৃত করবে। অভিষেকও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে এবং মহিলা ও শিশুদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে।

কালীঘাটের সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাসকে নিয়ে এদিনের বৈঠকে মন্তব্য করেন মমতা। বৈঠক থেকে তিনি পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও হুঁশিয়ারি দেন। ৪ মে-র পরে উত্তরপ্রদেশ বা ভিনরাজ্যে পালিয়ে পার পাবেন না কেউ। সকলকে অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য আদালতে টেনে আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভোটগণনা নিয়ে কাউন্টিং এজেন্টদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা ও অভিষেক। কাউন্টিং এজেন্টদের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। কোথাও অল্প ব্যবধানে বিজেপি এগিয়ে থাকলে পুনর্গণনার দাবি জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। সোমবার গণনার দিন ভোরেই কেন্দ্রে পৌঁছনো, গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাইরে না বেরোনো এবং দলবদ্ধভাবে যাতায়াত করার কথাও বলা হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থী শংসাপত্র পাওয়ার পর দলবদ্ধ ভাবেই বেরোতে হবে এজেন্টদের।

এদিনের বৈঠকে অভিষেক নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিজেপি নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় স্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে দাবি অভিষেকের। তার পরেও বিজেপি হারবে বলে দাবি করেন অভিষেক। কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষকরা ‘অসাংবিধানিক’ কাজ করছেন এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা অভিষেকও জানান।