বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের দিনই বাম, অতিবাম-সহ সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কালীঘাটে নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার ডাক দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
শনিবার ব্রিগেডের মাঠে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিয়েছেন। সেই সময়ই কালীঘাটে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি বলেছেন, ‘চারদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং এনজিও-কে বলব, আসুন আমরা জোট বাঁধি। বিজেপির বিরুদ্ধে একটা বড় মঞ্চ তৈরি করতে হবে।’
শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলই নয়, বাম এবং অতিবাম শক্তিকেও সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল— সবাই আসুন। যে যেখানে আছেন, আমরা একসঙ্গে লড়াই করি। কেউ কথা বলতে চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বিকেল চারটে থেকে ছ’টা পর্যন্ত আমি অফিসে থাকব। আমাদের প্রথম এবং প্রধান শত্রু বিজেপি।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটে বড় ধাক্কার পর মমতার এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বাম ও কংগ্রেসকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আক্রমণ করলেও এবার বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন তিনি। অনেকের মতে, বাংলায় বিজেপির শক্তিশালী উত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলাতেই এই অবস্থান নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতার এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, ‘জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সেলিম কার্যত কটাক্ষই করেছেন মমতাকে।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি জয় পেয়েছে ২০৭টি আসনে। তৃণমূলের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস ২, সিপিএম ১, আইএসএফ ১ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিজেপির ভোটের হার ৪৫.৮৪ শতাংশ, তৃণমূল পেয়েছে ৪০.৮০ শতাংশ ভোট। ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে এখন নতুন বিরোধী জোটের সম্ভাবনা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।