মমতার প্রাণনাশের আশঙ্কা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, তদন্তের দাবি বিরোধীদের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পরই রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতি— সর্বত্র শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

মানবাজারে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে খুন করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধী দলগুলির একাংশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে। যদিও বিজেপি পাল্টা আক্রমণে শাসক দলকে নিশানা করেছে।

কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাথে বলেন, ‘একজন মুখ্যমন্ত্রী যদি বলেন তাঁর প্রাণসংশয় রয়েছে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।’ তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বিদ্বেষ ও আক্রমণাত্মক ভাষা বেড়ে যাওয়ায় নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


এদিকে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবও একই সুরে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, ‘তিনি যদি এমন দাবি করেন, তা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।’ পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গে ফের তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। দলের রাজ্যসভার সাংসদ দীনেশ শর্মা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগতভাবে কোনও হুমকি নাও থাকতে পারে। বরং তাঁর শাসনে বাংলার মানুষই বিপদের মধ্যে রয়েছে।’ তিনি রাজ্যে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির মতো সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে শাসক দলকে আক্রমণ করেছেন।

প্রসঙ্গত, বিজেপির তরফে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপি নেতাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।