বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তরজা তুঙ্গে। শুক্রবার বিজেপির ইস্তাহার প্রকাশের পরই বারাসতের কাছারি ময়দানের জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ‘মিথ্যের ফুলঝুরি নিয়ে ভোটের সময় হাজির হচ্ছে বিজেপি’। সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ‘ভোটের আগে বলেছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা ঢুকবে। কেউ পেয়েছেন?’ তাঁর কটাক্ষ, ‘এরা কোকিলের মতো ভোটের সময় আসে। মিথ্যে বলে আবার উড়ে চলে যায়।’
এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজস্থান, দিল্লি, আসামে ডবল ইঞ্জিন সরকার মানুষের উপর অত্যাচার করছে। আর বাংলায় এসে বলছে, সোনার বাংলা গড়বে!’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। এখন আবার মিথ্যের ঝুলি নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হয়েছে।’
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ‘এসআইআর-এ ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। তার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলিম।’ তাঁর অভিযোগ, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আসামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে এনআরসি করে ১৯ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। বাংলাতেও সেই চেষ্টা চলছে।’
একই সঙ্গে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তুলে মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোট ও গণনার সময় শেষ পর্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। হলদিয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যেরও জবাব দেন তিনি। ব্রিগেডে এক হকারকে মারধরের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘ভোটের পর সবকিছুর আইনি জবাব দেওয়া হবে। খুনের বদলে খুন নয়, আইনের পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিন নাম না করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘যারা মানুষের নাম কেটে দেয়, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে ভয় দেখায়, তাদের গণতন্ত্রের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে।’ ফলে ভোট যত এগিয়ে আসছে, রাজ্য রাজনীতিতে ততই আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ছে। বারাসতের সভা সেই উত্তাপকে আরও উস্কে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।