নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার, তীব্র আক্রমণ শানালেন দুই সাংসদও

Mamata Banerjee Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। আর নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে ঋতব্রত গোষ্ঠী যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে বলে কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশন বিদ্রোহী শিবিরকে পিছনের দরজা দিয়ে সাহায্য করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকী বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেন অপর পক্ষকে বাড়তি ছাড় দেওয়া হচ্ছে? প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের সচিবকে কড়া চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে এই চিঠি নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ নির্বাচন কমিশনই দু’পক্ষকে বিস্তারিত বক্তব্য জানাতে বলেছিল। সেই চিঠি যেমন দেওয়া হয়েছে তেমন তিনজনের প্রতিনিধিদল গিয়ে দেখা করেও সব জানিয়ে আসেন। সেখানে আইনজীবী পাঠিয়েছিলেন ঋতব্রত গোষ্ঠী। বক্তব্য জানানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তারপরও অনৈতিক কাজ করে চলেছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। এই নিয়ে চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর। সোমবার নয়াদিল্লির এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মোদী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ।

অন্যদিকে এই সাংসদদের দাবি, ঘটনার সূত্রপাত জুলাই মাসের শুরুতে। যখন তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ বা ঋতব্রত গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনে একটি আবেদন জমা দেয়। সাধারণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এতটা তৎপরতা না দেখালেও, ওই চিঠির ক্ষেত্রে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখায় তাঁরা। এই বিষয়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, ‘আমরা সময় মেনে জবাব দিলেও অপর পক্ষ কোনও ই-মেল বা সশরীরে হাজিরা দেয়নি। তারা ১০ জুলাই পর্যন্ত যে বাড়তি সময় চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন তা মঞ্জুর করেছিল। কিন্তু সোমবার ১৩ জুলাই হয়ে গেলেও তাদের কোনও জবাব জমা পড়েনি।’


তাছাড়া এটাকেই বলা হচ্ছে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া বা যুক্তি সাজাতে বাড়তি সময় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের (কালীঘাট)। এই বিষয়ে সাংসদদের তোপ, তৃণমূলের দেওয়া নথির উপর ভিত্তি করে যাতে বিরোধী পক্ষ জবাব সাজাতে পারে সেটার জন্যই এই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে স্পষ্ট লিখেছেন, যেহেতু অপর পক্ষ নির্দিষ্ট ডেডলাইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে সেক্ষেত্রে তাদের আর বাড়তি সময় না দিয়ে ৬ জুলাই জমা পড়া তৃণমূলের নথির উপর ভিত্তি করেই যেন নির্বাচন কমিশন তদন্তের নিষ্পত্তি করে। আর সাংসদ সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, ‘২০১৪ সালের পর থেকে ইডির ৯৫ শতাংশ মামলাই করা হয়েছে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে। বিজেপি আসলে দেশকে ‘ওয়ান-পার্টি স্টেট’ করতে চায়।’