নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরের গণনায় কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা মমতার

মঙ্গলবার ঘড়ির কাঁটায় ১টা বেজে ৫০ মিনিটে হাইকোর্টে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এসে তিনি সরাসরি চলে যান আফার্ম সেকশনে। সেখানে তিনি ইলেকশন পিটিশন মামলার নথিতে স্বাক্ষর করেন। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের এজলাসে ইলেকশন পিটিশন মামলার শুনানি হতে পারে।

ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কলকাতা হাইকোর্টে এসেছিলেন সেই সময়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই দিনের ঘটনা এড়িয়ে যেতেই কি মঙ্গলবার, ১৬ জুন একেবারে চুপিসারে কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নাকি রাজ্যজুড়ে যেভাবে তৃণমূলের কর্মী-কাউন্সিলরদের উদ্দেশে ডিম থেরাপি চলছে সেটাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সকলের অলক্ষে হাইকোর্টে পৌঁছলেন। এই প্রশ্নই তুলেছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশ।

হাইকোর্ট সূত্রের খবর, চলতি বছরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গিয়েছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই হার আজও স্বীকার করে নিতে পারেননি। আর সেজন্যই এবার তিনি সরাসরি রাজ্যের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন। মঙ্গলবার সকলের আড়ালে কলকাতা হাইকোর্টের যে গেট দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবেশ করেছিলেন সেই গেট দিয়ে তিনি বেরোননি।


এদিন হাইকোর্ট থেকে বেরোনোর সময়ে বেলেঘাটার বিধায়ক কুনাল ঘোষ, রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন, আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দোলা সেন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ২টো ৪৫মিনিট নাগাদ হাইকোর্ট থেকে বেরিয়ে সরাসরি কালীঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। আদালত সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী গণনায় কারচুপির অভিযোগেই ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বছরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ২৬-এ ভবানীপুরে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত হওয়ার পরে মমতার ফের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘটনায় নন্দীগ্রামেরই ছায়া দেখতে পাচ্ছেন আইনজীবীদের একাংশ।