মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস মমতার

মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর মাত্র কয়েক মাস পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, বাংলা জুড়ে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। তার আগেই উত্তরবঙ্গে এক ধর্মীয় কর্মসূচিতে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেন তিনি। শিলান্যাস ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যবাসীকে ‘সর্বধর্মে বিশ্বাস’-এর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মন্দির প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ১৭.৪১ একর জমির উপর গড়ে উঠবে এই মহাকাল তীর্থক্ষেত্র। একসঙ্গে প্রায় এক লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগমের ব্যবস্থা থাকবে। মূল মন্দিরের পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক হল, কনভেনশন সেন্টার এবং বারোটি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। মন্দির চত্বরে ভারতের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপও রাখা হবে। দুটি প্রবেশপথ ও চার কোণে চার দেবতার মূর্তির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মহাকাল মন্দির বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিবমন্দির হিসেবে গড়ে উঠবে। দর্শনার্থীদের জন্য এই মন্দিরের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি। মোট ২১৬ ফুট উচ্চতার এই মূর্তির মধ্যে ১০৮ ফুটের ব্রোঞ্জের মূল মূর্তি থাকবে বলে জানান তিনি। মন্দির নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


এদিন এই মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বারবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘একটি আঙুলে মুঠো হয় না। পাঁচটি আঙুল এক হলে তবেই শক্তি তৈরি হয়। তেমনই এক ধর্ম নয়, সব ধর্মকে নিয়ে চলাই আমাদের সংস্কৃতি।’ কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারকেশ্বর, তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা, মাহেশের মন্দির, ঝাড়গ্রামের কনকদুর্গা মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি ফুরফুরা শরিফের উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। খ্রিস্টানদের উৎসবের সময় কলকাতা সাজানোর উদাহরণ টেনে এনে বলেন, রাজ্য সরকার সব ধর্মের প্রতিই সমান শ্রদ্ধাশীল।

অনুষ্ঠানের মাঝেই উত্তরবঙ্গের জন্য আরও ছয়টি ভলভো বাসের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী, যা কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে সংবর্ধনা জানান তিনি।

নির্ধারিত লগ্ন মেনেই শিলান্যাস করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি পঞ্জিকা দেখি না, এমনটা ভাববেন না। সময় মেনেই এসেছি।’ এরপর ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনির মধ্যে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই শিলান্যাস ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে। বিজেপির অভিযোগ, ধর্মীয় আবহকে কাজে লাগিয়ে ভোটের ময়দান শক্ত করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁর কাছে এই প্রকল্প উন্নয়ন ও সম্প্রীতির প্রতীক। বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের মাটিতে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।