নন্দীগ্রামে বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখলেন পদ্মপ্রার্থী হাসিরানি রথ। শুধু তাই নয়, রেজিনগর আসনটিও বিজেপির ঝুলিতে আসে। উপনির্বাচনে বিরোধীদের উড়িয়ে দিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তারপরই এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে ফলাফলের সবচেয়ে চমকের বিষয় হল, ঋতব্রত শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে পিছনে ফেলে নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। আর এই দুই কেন্দ্রের ফলাফলকে নিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হেভিওয়েট নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারই কি বাড়তি অক্সিজেন জোগাল? উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু মনে রাখা দরকার মিলন প্রধানকে সমর্থন দিয়েছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুতরাং তাঁর দলের একটা বড় অংশের ভোট পেয়েছেন মিলন প্রধান। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নয়াদিল্লি থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘এটা কোনও ভোট হয়েছে যে ফল নিয়ে বলব। এরা ঠিক মতো ছাপ্পাও মারতে পারে না।’
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী ভবানীপুর কেন্দ্র নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তাই এই উপনির্বাচন। আর রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরাজিত হলেও অন্যান্য বিরোধীদের থেকে ভাল জায়গায় রয়েছে। রেজিনগরের একটি বুথের ফল নিয়ে শুক্রবার দুপুরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে তিনি একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে দাবি করেন, ওই বুথে মোট ভোটার যা, তার চেয়ে বেশি ভোট বিজেপি পেয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই ফলাফল নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘৭৭২ জন ভোটার আর ভোট পড়েছে ৯০৯। তার মানে পুলিশকে দিয়ে ছাপ্পা করালে এরকমই হয়।’
তাছাড়া এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে ছাপ্পার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী। আর ছাপ্পা ভোট দিয়েই বিজেপি জিতেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাই ফলাফল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরক্তিভরা অভিব্যক্তি, ‘আরে ছাড়ুন ছাড়ুন। মাথাটা আগে ঠিক করতে বলুন। ভোটই হয়নি।’ উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭ ভোট। কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৪১ হাজার ভোট। রেজিনগরে সংখ্যালঘুরাও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া ‘বন্ধুত্বের অফার’ গ্রহণ করে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারকে জিতিয়েছেন প্রায় ৮৮ হাজার ৯১৯ ভোটে। আজুপ প্রার্থী দ্বিতীয় স্থান পেলেও গোলাম নবি আজাদের প্রাপ্ত ভোট প্রায় ৩৩ হাজার ৩৩৬।