‘ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো’, শ্রীরামপুর থেকে লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার

Mamata Banerjee Meeting Photo-SNS

দলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ করার পর প্রথমবার জেলা সফরে গিয়ে জনসভা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই শনিবার শ্রীরামপুরে শর্তসাপেক্ষে জনসভা করলেন তিনি। এদিন সভায় যাওয়ার আগে থেকেই একের পর এক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূলনেত্রী। মমতার অভিযোগের আঙুল বিজেপি এবং পুলিশের দিকে। তবে এখান থেকে আগামীর লাইন বেঁধে দেন নেত্রী। কদিন আগেই এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় সেটাই এখন বিরোধীদের কীছ্ ‘তুরুপের তাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার শ্রীরামপুরে জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিলেন।

এখন গোটা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে চাপে আছেন জ্ঞানেশ কুমার। সেই সুযোগটাই কাজে লাগালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই বিরোধীরা এই ইস্যুতে এককাট্টা হয়ে গিয়েছেন। তাই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর সপ্তমে তুলে তোপ দাগেন, ‘ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদেরও ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে আমাদের আন্দোলন চলবে। আমি এখানে আসার আগে শুনছিলাম উত্তরপাড়া, জিটি রোড জ্যাম করে রেখে দিয়েছেন। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।’

এদিকে জনসভার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শাসকদল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবার থেকে শহর থেকে জেলায় এবং গোটা দেশে আন্দোলন চলবে বলে পথ বাতলে দেন তিনি। সেখানে দল দেখা হবে না। শুধু ইস্যু দেখা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ, ‘বাংলা দখল করবে বলে এসআইআর করেছিল, ৯৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ওই অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা সন্দেহজনক। ফর্ম ৬ বস্তায় করে বিজেপির সিল লাগিয়ে জমা দিচ্ছিল বিজেপির লোকজন। সব তথ্য রেখে দিয়েছি। ভ্যানিশ কুমার নামটা আমি প্রথম বলেছিলাম। কারণ কী জানেন? ধরে ধরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছিল। ওরা বাংলা দখল করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব।’


অন্যদিকে ইতিমধ্যেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে তৃণমূলনেত্রীর। তার পরই শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে তুলোধনা করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর চড়িয়ে বলেন, ‘পুলিশ শুক্রবার রাতে সকলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলছে, ড্রোন দিয়ে ছবি তুলবে, যাঁদের সভায় যেতে দেখা যাবে, রাতে গ্রেপ্তার হবে। আপনারা আইনের রক্ষক, কেন ভক্ষক হবেন? যখন আপনি ফাঁসবেন, বিজেপিদের পাবেন না। আপনার পরিবার বিপদে পড়বে। পুলিশ আমার শত্রু নয়। মানুষকে রক্ষা করা তাদের কাজ। কিন্তু আজ কী করছেন? হানিমুন পিরিয়ড নয়, গুন্ডাদের পিরিয়ড, মানিমুন পিরিয়ড, আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেয় না। কল্যাণের জন্য বিচারপতির নির্দেশ আজকে সভা করছি। ভ্যানিশ কুমারের বিদায়ের দাবিতে বিদায়ী ঘণ্টা বাজান। পুলিশ বাধা দিলে বাড়িতেই কাসর ঘণ্টা বাজান মা-বোনেরা। নন্দীগ্রামে মিলন প্রধানকে কেন গ্রেপ্তার করা হল? ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমার সমর্থন আছে কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে। আমরা কিন্তু হারিনি। প্রথমদিন থেকে বলছি। আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে। কাউন্টিং থেকে বুথ এজেন্ট সকলে মিলে এই কাজ করেছে। যে পার্টি এই ইস্যুতে সমর্থন করবে। কে লাল কে নীল দেখব না। আমরা তাদের সমর্থন করব। আমি সকলকে বলব গ্রেপ্তারের জন্য তৈরি থাকুন। ভয় ভাঙুন। মুখ খুলুন, কথা বলুন, জোট বাঁধুন। আমায় আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করতে পারি। এখন ভরসা আউট, ভয় ইন।’