কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের হেনস্থার অভিযোগ মমতার

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট দেওয়ার পর তিনি দাবি করেন, ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে।’

ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কি সত্যিই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন? আমি দেখেছি কেন্দ্রীয় বাহিনী বহু জায়গায় নিরীহ মানুষকে মারধর করছে। মহিলা ও শিশুদেরও রেয়াত করা হচ্ছে না।’ তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থক এবং ভোট এজেন্টদের নিশানা করছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘নদিয়া, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোগাহাট এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এলাকায় গত রাত থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।’ তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।


এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাইরের রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কারণে যোগাযোগের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ‘ওরা বাংলা বোঝেন না। ফলে ভুল নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, আর তার জেরে নিরীহ মানুষদের ওপর অত্যাচার চলছে,’ বলেন তিনি। তবে এই সব অভিযোগের মাঝেও আত্মবিশ্বাসী সুরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘এই পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ আমাদের পাশে আছেন। আমরা জিতবই।’

উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি নিজেই প্রার্থী এবং সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনভর ভবানীপুর এলাকায় ছিটেফোঁটা উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। কিছু ক্ষেত্রে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলই বলে দেবে মানুষের রায় কোন দিকে গেল।