এসআইআর-এর নামে বাংলায় ‘পরিকল্পিত অশান্তি’র অভিযোগ মমতার

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রের শাসকদল ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের আক্রমণ শানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া’-র নামে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরের আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। তিনি বলেন, বাংলায় ভোটে জেতার রাস্তা বন্ধ বুঝেই পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে বিজেপি। তাঁর দাবি, এই চক্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় নতুন করে একাধিক নিয়মের পরিবর্তন এবং নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভোটার তালিকায় নাম রাখার ক্ষেত্রে এতদিন যে নথিগুলিকে নির্ধারিত করা হয়েছিল, তার মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড আর গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এত দিন মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জন্ম শংসাপত্র হিসেবে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তা আর গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আধার কার্ড মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, মালদহে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক জেলায় আদিবাসীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

রাজ্য তথা দেশের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও এসআইআর নিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অমর্ত্য সেন, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, জয় গোস্বামী বা দেব— কাউকে ছাড়ছে না। এঁদেরও যদি নোটিস যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী!’ তাঁর অভিযোগ, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও গ্রহণ করা হচ্ছে না। যে নথি সারা দেশে মান্য, তা শুধু বাংলাতেই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।


নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে একযোগে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাহলে কি নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র দপ্তর আর বিজেপি মিলেই ভোট দেবে? এ ভাবে চললে এক শতাংশ ভোটারও থাকবে না।’ তাঁর দাবি, অন্য কোনও রাজ্যে এমন পরিস্থিতি নেই। শুধুমাত্র বাংলাতেই সব কিছু আটকে দেওয়া হচ্ছে।

যদিও বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান মমতা। তিনি স্পষ্ট বলেন, মানুষের পাশে তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আরও জোরদার হবে বলেও জানিয়েছেন। কমিশনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, চেয়ার-এর মর্যাদা, পরম্পরা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেই মানুষের শ্রদ্ধা পাওয়া যায়। রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁরা যেন ফর্ম জমা দেন এবং আদালতের উপর ভরসা রাখেন।

প্রসঙ্গত, এদিন বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিককে ভিন রাজ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বেলডাঙার পর বিহারেও একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করছে। এক দিকে নাম কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে মারধর করে খুন।’ তাঁর দাবি, প্রতিটি ঘটনায় রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবেই।

শেষে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে মমতা বলেন, ‘সোশ্যাল মাধ্যমে দেখছি ২-১জন খুব বেশি বলছে। নিজেদের জীবন কেটেছে ইডি, সিবিআইয়ে। কারও কারও শুষ্ক মরুভূমি। আমাকেই ছাড়াতে হয়েছে। অদৃষ্টের কি সুন্দর পরিহাস। তারা বলছে. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১০ বছর জেলে পাঠালে , ফাঁসি দিলে, আমি বলি- শোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব পরোয়া করে না। আমি পরোয়া করি মানুষকে। যতদিন বাঁচব লড়াই করে বাঁচব’।

উল্লেখ্য, শুক্রবার শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, শনিবার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। এদিন কথা প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বিচারপতি সুজয় পালকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন মমতা।