বামছাত্র বিক্ষোভকে আশ্বস্ত করলেন মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Photo: IANS)

রাজভবনে মােদি-মমতার মুখােমুখি হওয়ার পরে বিকেলেও মমতার সুরে সুর মিলিয়েই ছাত্ররা স্লোগান তুলেছিল এনআরসি, এনপিআর আর সিএএ-এর বিরুদ্ধে। ধ্বনি উঠেছিল ‘গাে ব্যাক মােদি’। আর রাতে একই জায়গা থেকে ধ্বনি উঠল ‘মমতা গাে ব্যাক’।

বিকেল থেকে সন্ধের মধ্যে রানি রাসমণিতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ধর্না মঞ্চের চিত্রটা বেমালুম বদলে দিল মিলেনিয়াম পার্কে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড অনুষ্ঠানে মােদি-মমতার পাশাপাশি আসা। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর যােগদানের পরেই বাম ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডােরিনা ক্রসিং থেকে প্রতিবাদী বাম ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়ারা তিনটি ব্যারিকেড ভেঙে পৌছে যায় রানি রাসমণিতে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের ধর্না মঞ্চে। তখন তাদের আক্রমণের তির ঘুরে যায় মমতার দিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই মাইক নিয়ে বােঝাতে চেষ্টা করেন, বিকেলে ধর্না মঞ্চে তিনি ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আর মিলেনিয়াম পার্কের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রােটোকল মেনেই তাঁকে যেতে হয়েছিল।


বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সামনে ব্যাখ্যা দেন, প্রশাসনিক কারণেই তাঁকে মিলেনিয়াম পার্কের অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছিল। কিন্তু দলনেত্রী আর মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্বৈত সত্তার দেওয়ালে তখন আছড়ে পড়েছে ছাত্ররােষের আঘাত। ধ্বনি উঠেছে ‘দিদি-মােদি সে আজাদি’। শনিবার রাতে মােদি যখন বেলুড় মঠে বসেছেন ধ্যানের আসনে, মমতা তখন ধর্নার মঞ্চে।

মুখ্যমন্ত্রীকে এক পড়ুয়া সরাসরি প্রশ্ন করে, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ঢুকতে দিলেন কেন বাংলায়?’ উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি নিজে থেকে এসেছেন কেন্দ্রীয় সরকারি অনুষ্ঠানে। তােমাদের আন্দোলন করার হলে দিল্লিতে গিয়ে করাে’। শনিবার রাতে রানি রাসমণি রােডের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী হাত জোড় করে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরােধ জানান। বলেন, তােমরা শান্ত হও। তােমাদের যে দাবি, আমারও একই দাবি। কিন্তু অশান্তি কোরােনা। আন্দোলনের নামে অশান্তি করে জেতা যায়না। অহিংস আন্দোলনের পথে চল।

কিন্তু মমতার এই অনুরােধেও পরিস্থিতি শান্ত হয় না। মােদি-মমতার সেটিং নিয়ে স্লোগান উঠতে থাকে। এরপরে একবার মেজাজ হারিয়ে মমতাকে কারও উদ্দেশে বলতে শােনা যায়, বেশি কথা বলবেন না। হু আর ইউ? পরক্ষণেই তিনি মেজাজ সংবরণ করে বলেন, তােমরা যতখুশি স্লোগান দাও, আমাদের পুলিশ কিছু করবে না। এটা দিল্লির পুলিশ নয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সকালে রাজভবনে তিনি গিয়েছিলেন রাজ্যের দাবিদাওয়ার দরবার করতে। রাজ্যের জন্য ৩৮ হাজার কোটি বকেয়া রয়েছে, তা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলতে। তাছাড়া রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর চারটে অনুষ্ঠান থাকলেও তিনি মাত্র একটি অনুষ্ঠানেই যােগ দিয়েছিলেন প্রােটোকল মেনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে মমতা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বলতে কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মুখের সামনে বলতে পারে, সিএএ বাতিল করুন।

এর পরেও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষোভের আগুন নেভে না। প্রতিবাদী স্লোগান চলতেই থাকে। স্লোগান ওঠে, ‘মােদির এজেন্ট মমতা, জেনে গেছে জনতা’। ‘সেটিং হলে তলে তলে, দিদি তুমি কার দলে?’ এইরকম বাক্য বিনিময়ে মধ্যে একবার মমতাকে বলতে শােনা যায়, আমাদেরও ছাত্র সংগঠন আছে। আমাদের মঞ্চে হামলা হলে ভালাে হবে না। রানি রাসমণিতে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চ থেকেও তখন মমতা বন্দে মাতরম ধ্বনি দিতে থাকেন।

হতাশ গলায় মমতাকে বলতে শােনা যায়, তােমরা যা খুশি করাে, যতক্ষণ পারাে করাে। রাজ্যের ছাত্র-যুবদের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি উত্তপ্ত হতে ওঠে। তার জেরে রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রানি রাসমণির ধর্না মঞ্চ ঘিরে পুলিশকে সতর্ক প্রহরায় থাকতে হয়। একটা সময় পরে মুখ্যমন্ত্রী ধর্না মঞ্চ থেকে বাড়ি চলে গেলেও বাম ছাত্র সংগঠনের অবস্থান চলতে থাকে।

এদিকে, ধর্মতলায় মমতার ধর্না মঞ্চকে ঘিরে বাম ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘােষের প্রতিক্রিয়া, উনি বাঘের পিঠে চড়ে বসেছেন।