বঙ্গভঙ্গের জল্পনার বিরুদ্ধে আবার সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ধরনামঞ্চ থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। বাংলাকে ভাগ করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে রাজ্য, সাফ জানিয়ে দেন মমতা। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক! বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকারও টিকবে না।‘
সম্প্রতি বিজেপির কিছু নেতার বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে বাংলাকে ভাগ করার প্রসঙ্গ। প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কথা তুলে কখনও দার্জিলিংয়ের পার্বত্য অঞ্চলকে আলাদা করার কথা বলা হয়েছে, কখনও রাঢ়বঙ্গকে পৃথক করার দাবি উঠেছে। আবার কিছু নেতা সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলা ও বিহার সংলগ্ন অঞ্চল নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এই সব মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ইস্যুতেই শুক্রবার দুপুর থেকে ধর্মতলার মঞ্চে অবস্থান শুরু করেন তিনি। শনিবার আবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করেন।
বঙ্গভঙ্গ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য ছিল আরও তীব্র। মমতা বলেন, ‘কিছু শয়তান লোক এই ধারণা ছড়াচ্ছে যে বাংলা ও বিহারের কিছু অংশ আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হবে। আমি বলছি, বাংলায় হাত দিয়ে দেখুক।‘ পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের সরকার এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং অন্য দলের সমর্থনের উপর নির্ভর করেই টিকে আছে।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলার ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনওরকম রাজনৈতিক পদক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়া হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল শুরু হওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয় পিআইবি। একটি পোস্টে তারা জানায়, সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর। ওই পোস্টে বলা হয়, শিলিগুড়ি করিডরের কাছে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের নেই।
পিআইবি আরও জানায়, যাচাই না করে এই ধরনের তথ্য ছড়ানো হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে সমাজ মাধ্যমে কোনও দাবি দেখলে তা শেয়ার করার আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অন্যদিকে কেন্দ্রের তরফে তা খণ্ডন—এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই নির্বাচনের আগে বাংলা ভাগের জল্পনা আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।