বিশ্ববাজারে পা রাখল মালদার আম, ইতালি-সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রপ্তানির নতুন সাফল্য

বাঙালীদের কাছে আমের জুড়ি মেলা ভার। গরমকাল পড়লেই খাবারের টেবিলে আম মাস্ট। আর মালদার আম হলে তো কোনও কথাই নেই। এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালদার সেই আম পৌঁছে গেল আন্তর্জাতিক বাজারে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর সাবট্রপিক্যাল হর্টিকালচার (সিআইএসএইচ)-এর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে), মালদার সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইতালির মিলান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে রপ্তানি হল জেলার উৎকৃষ্ট মানের আম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মালদার ইংরেজবাজারের অমৃতি এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ কেজি আম্রপালি আমের একটি চালান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি) ভিত্তিক ম্যাঙ্গো ক্লাস্টারে উৎপাদিত লক্ষণভোগ-সহ অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য আমও ইতালির মিলান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি হয়েছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমার মালদা’ উদ্যোগের অধীনে জেলার বিভিন্ন আম-সংক্রান্ত কর্মসূচিকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চলছে। এই রপ্তানিকে সেই উদ্যোগেরই উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, জিএপি-ভিত্তিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকেরা ফল প্যাকেজিং, সমন্বিত রোগ-পোকা দমন, সুষম সার প্রয়োগ, গাছের পরিচর্যা, বাগান পরিষ্কার রাখা এবং উন্নত মানের সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষের ফলেই আজ আন্তর্জাতিক বাজারে মালদার আমের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। কৃষকদের এই সাফল্য আগামী দিনে আরও বড় বাজারের দরজা খুলে দেবে।’ জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর বলেন, ‘প্রশাসন, বিজ্ঞানী ও কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতেও রপ্তানিমুখী কৃষিকে আরও উৎসাহ দেওয়া হবে, যাতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায় এবং মালদার আম বিশ্ববাজারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।’

মালদার বিজ্ঞানী ড.নায়কের কথায়, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদনে সক্ষম করে তোলা সম্ভব হয়েছে। এই রপ্তানিকে ঘিরে আশাবাদী প্রশাসন ও কৃষি মহল। তাঁদের মতে, এর ফলে একদিকে মালদার আমের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে। অন্যদিকে, জেলার কৃষকদের জন্যও খুলে যাবে নতুন আয়ের সম্ভাবনা।