রাজ্যে মনোনীত পদে বড় ছাঁটাই, নির্দেশিকা জারি নবান্নের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু হল। নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বোর্ড, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং অ-আইনসিদ্ধ সংস্থায় মনোনীত সদস্য, অধিকর্তা ও চেয়ারম্যানদের মেয়াদ অবিলম্বে শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

১১ মে জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং সচিবদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের দপ্তরের অধীন সমস্ত মনোনীত পদে থাকা ব্যক্তিদের মেয়াদ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শুধু তাই নয়, অবসরের বয়স পেরিয়ে পুনর্নিয়োগ বা পরিষেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে যাঁরা এখনও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সের পরে যাঁরা পুনর্নিয়োগ বা পরিষেবা বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের মেয়াদও অবিলম্বে শেষ করা যেতে পারে।


নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকার প্রশাসনিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে চাইছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন বোর্ড ও সংস্থায় যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হল।

নির্দেশিকাটি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের সমন্বয় শাখা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বোর্ডে নতুন নিয়োগের রাস্তা খুলে যেতে পারে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক বৈঠকে ‘কাজ বেশি, কথা কম’ নীতির উপর জোর দিয়েছেন। সেই আবহেই এবার সরকারি স্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এল।