পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের একদিন পর দলের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানালেন, অসম লড়াইয়ের ময়দানেও তাঁরা সম্মানের সঙ্গে লড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, জনতার রায়ই শেষ কথা।
মহুয়া মৈত্র সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘জনতার ইচ্ছাই সর্বোচ্চ। যদি বাংলা বিজেপিকে চেয়ে থাকে, তবে বাংলা বিজেপিকেই পেয়েছে। আমরা সেই রায়কে সম্মান জানাই। অসমান পরিস্থিতিতে, কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা ভালো লড়াই করেছি—এ জন্য আমি আমার নেতা ও দলের উপর গর্বিত।’
এই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিজেপি ২০৬টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮১টি আসন।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, ‘আমরা লড়াই চালিয়ে যাব—একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশের জন্য, যেখানে সংবিধানই শেষ কথা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর নয়।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পরাজয়ের পরেও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল শিবির।
ভোটের অঙ্কের দিক থেকেও বিজেপি এগিয়ে। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৪১ শতাংশ। বামফ্রন্ট ৪ শতাংশ, কংগ্রেস ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য দল মিলিয়ে প্রায় ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং পূর্ব মেদিনীপুর-সহ মোট দশটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও পায়নি। আদিবাসী ও মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাতেও দলের ভরাডুবি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, পরাজয়ের পরেও মহুয়া মৈত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে আত্মসমালোচনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থা—যেখানে জনতার রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।