উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত রক্ষাকবচ পেলেও পুলিশের তদন্তের মুখোমুখি হতেই হবে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্তে অসহযোগিতা করলে সেই তথ্য আদালতকে জানাতে হবে রাজ্যকে।
নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে মহুয়ার আইনজীবী আদালতে জানান, ডিম হামলার ঘটনার পাল্টা অভিযোগের জেরে তাঁকে তলব করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি লোকসভার অধিবেশনে ব্যস্ত থাকায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়।
অন্যদিকে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে দাবি করেন, মহুয়া মৈত্রকে ইতিমধ্যেই চারবার নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিস গ্রহণ করেও তিনি হাজির হননি। বরং যে ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেটি নির্মীয়মাণ ভবন বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তাই তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আদালতে তোলা হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, মামলায় অভিযোগগুলির সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের মধ্যে হওয়ায় গ্রেপ্তারের মতো কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই, যদি অভিযুক্ত তদন্তে সহযোগিতা করেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৪ আগস্ট বিকেল ৩টেয় মহুয়া মৈত্রকে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজির হতে হবে।
একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্ত চলবে এবং ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মহুয়া মৈত্রের রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। তবে তিনি যদি তদন্তে সহযোগিতা না করেন, তাহলে রাজ্য সেই বিষয়টি হাইকোর্টকে জানাতে পারবে। এছাড়া আদালতের আরও নির্দেশ, থানায় হাজিরার সময় মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। ডিম হামলা বা অন্য কোনও ধরনের হেনস্থা যাতে না হয়, সেই দায়িত্বও পুলিশের। মামলার পরবর্তী শুনানি ১ অক্টোবর।