মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ গুলিকাণ্ডে খুন হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক (পিএ) চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার রাতে যশোর রোড সংলগ্ন দোহারিয়া এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি, যার মধ্যে গাড়ির চালকও রয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, একটি স্করপিও গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। সেই সময় মোটরবাইকে চেপে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ির সামনে এসে পথ আটকে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে ঘিরে ধরে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে নির্বিচারে পর পর গুলি চালায়। পয়েন্ট ব্ল্যান্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। বুকে গুলি লাগে রথের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, এখনও স্পষ্ট নয়।
এই হামলায় গাড়ির চালক-সহ আরও একজন আহত হন। তাঁদের মধ্যমগ্রাম চৌমাথা সংলগ্ন একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা।
অভিযোগ, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ি পিছু করা হয়। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। দুটি গুলি চন্দ্রনাথের পেট এবং বুকে গুলি লাগে। আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও তিনি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি। ভবানীপুরে শুভেন্দুর হয়ে যে টিম কাজ করছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ।
জাতীয় সড়কের উপর এমন দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক বিধায়ক ও নেতা হাসপাতালে ছুটে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কৌস্তভ বাগচি, পীযূষ কানোরিয়া, শঙ্কর ঘোষ ও শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারীরও।
এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা ঘটনার কারণ স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।