শিয়রেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। তার ফলে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। আর এর মধ্যেই বিহার থেকে বাংলায় ঢুকল প্রচুর বাইক। আর এই ঘটনার পিছনে বিজেপি রয়েছে বলে খবর। রবিবার সীমান্তজেলা মালদহে এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। ভোটের আগে বিহারের নম্বরপ্লেট দেওয়া বাইক ঢোকানোর পিছনে গেরুয়া শিবির রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূলের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পদ্মশিবির। বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, ভোটের আগে ‘কার্যকর্তা’দের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাইক পাঠিয়েছেন। আগেও বাইক পাঠানো হয়েছিল, এ বারেও পাঠানো হয়েছে। মালদহে এসেছে, এর পর রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও বাইক যাবে।
রবিবার সকাল থেকে দেখা যায় মালদহ জেলা বিজেপি দপ্তরের সামনে সারি সারি বাইক দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর বাইকগুলিতে যে নম্বরপ্লেট রয়েছে, তা বিহারের। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ভোটের সময় বুথদখল রুখতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রস্তুতি দেখতে রাজ্যের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যেতে হবে ‘কার্যকর্তা’দের। আর তার জন্যই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ওই বাইকগুলি পাঠিয়েছেন বলে দাবি বিজেপির। তবে এই ভিনরাজ্য থেকে বাইক আমদানি নিয়ে নিশানা করেছেন মালদহ জেলা তৃণমূলের সভাপতি রহিম বক্সী।
তাঁর দাবি, ‘ভোটে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেই বিহার থেকে ৭-৮ লরি বাইক নিয়ে আসা হচ্ছে।’ তৃণমূল মুখপাত্র শুভময় বসু জানিয়েছেন, ‘পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে নিয়ে এনেছি। নির্বাচনের আগে অশান্তি পাকানোর জন্যই বাইক এনেছে বিজেপি।’ তবে পাল্টা তোপ দেগেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূলের ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বলে মন্তব্য বিজেপি নেতৃত্বর।
মালদহের বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘জেলার নেতাদের ভোটপ্রচারের জন্য এই বাইক নিয়ে আসা হয়েছে। গত নির্বাচনেও এসেছিল। এ বার ১৪টি বাইক এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিহারে ভোট শেষ। কিছু দিন পরে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের সময় কার্যকর্তাদের ঘোরার জন্য এই বাইকগুলি দেওয়া হয়। শিলিগুড়িতে এসেছে। মালদহে এসেছে। কলকাতাতেও বাইক পাঠানো হবে। গাড়ির কাগজপত্র সব ঠিক আছে। বাংলার ভোট শেষ হলে আবার অন্য জায়গায় বাইকগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল।’