মনীষীদের নামে নতুন পরিচয়ে সেজে উঠেছে লোকভবন

বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সম্মিলনে নতুন পরিচয় পেল লোকভবন। রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির অনুমোদনে লোকভবনের বিভিন্ন কক্ষ, সভাঘর, প্রবেশদ্বার, উদ্যান ও রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বাংলার বিশিষ্ট মনীষী, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সমাজসংস্কারকদের নামে। সাম্রাজ্যবাদী আমলের নাম সরিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে রাজভবনের নাম পরিবর্তন করে লোকভবন নাম রাখা হয়েছিল। এবার তার বিভিন্ন অংশে নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি এবিষয়ে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লোকভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রবেশদ্বারের নাম করা হয়েছে ডা. বিধানচন্দ্র রায়ের নাম অনুসারে। আবার লোকভবনের একাধিক ঐতিহাসিক কক্ষেরও নতুন নামকরণ হয়েছে। মার্বেল হলের বিভিন্ন অংশের নাম হয়েছে ‘পরমহংস কক্ষ’, ‘বিবেকানন্দ কক্ষ’ ও ‘মা সারদা কক্ষ’।

প্রিন্স অব ওয়েলস স্যুইটের নাম হয়েছে ‘গুরুদেব কক্ষ’, থ্রোন রুমের নাম ‘বন্দেমাতরম সভাঘর’ এবং কাউন্সিল চেম্বারের নাম রাখা হয়েছে ‘সংবিধান কক্ষ’। এছাড়া বিভিন্ন স্যুইটের নামকরণ করা হয়েছে শ্রীঅরবিন্দ, হরিচাঁদ ঠাকুর, শ্রীচৈতন্য এবং মাতঙ্গিনী হাজরার নামে। বলরুমের সেন্ট্রাল হলের নাম হয়েছে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ হল, সাউথ হলের নাম জগদীশচন্দ্র বসু হল এবং নর্থ হলের নাম তেনজিং নোরগে হল।

এছাড়াও লাইব্রেরির নাম রাখা হয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গ্রন্থাগার, রাজ্যপালের দপ্তরের নাম হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কক্ষ এবং বাসভবনের নাম শান্তিনিকেতন। বিভিন্ন প্রবেশদ্বারের নামকরণ করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রাজা রামমোহন রায়, ক্ষুদিরাম বসু এবং সিধু-কানুর নামে। নতুন নামগুলি কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ফলক ও সাইনবোর্ডও পরিবর্তন করা হবে। রাজ্যপালের নির্দেশে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। রাজ্যপালের সচিব সৌমিত্র মোহন এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।