সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী শনিবার ভোটার তালিকায় তথ্যে অসংগতি বা ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হবে ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের তালিকাও। কমিশন সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভোটারতালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, যেসব ভোটারের নথিতে বয়স, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্যগত অসংগতি রয়েছে, তাদের তালিকা প্রকাশ করে শুনানির সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ভোটারের নাম কোনও নির্দিষ্ট বুথ বা বিধানসভার সঙ্গে সঠিকভাবে ম্যাপ করা হয়নি, অর্থাৎ ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করার কথা বলেছে আদালত।
এই নির্দেশের পরই নির্বাচন কমিশন রাজ্য ও জেলা স্তরে প্রস্তুতি শুরু করে। কমিশনের এক আধিকারিক জানান, তালিকায় প্রতি ভোটারের নামের সঙ্গে কী ধরনের অসংগতি রয়েছে, তার স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে যাতে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা শুনানির সময় প্রয়োজনীয় নথি পেশ করে নিজেদের দাবি প্রমাণ করতে পারেন। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা সরকারি পরিচয়পত্র, কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তাও আগেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আনম্যাপড ভোটারদের ক্ষেত্রেও কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট।অনেক ক্ষেত্রে পুরনো ঠিকানা, ওয়ার্ড বিভাজন বা প্রশাসনিক সীমা পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। শনিবার প্রকাশিত তালিকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানির দিন, স্থান ও প্রক্রিয়া জানানো হবে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নয়, বরং ভুলত্রুটি সংশোধন করা। সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশে জানিয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার যেন কোনওভাবেই খর্ব না হয়, সেই বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তালিকা প্রকাশের পর শুনানির প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে, সেদিকেই নজর থাকবে সবার। শনিবারের তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, রাজ্যে কতজন ভোটার ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ ও আনম্যাপডের আওতায় পড়ছেন।