বিএলওদের নিরাপত্তার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে জমা পড়ল চিঠি

প্রতীকী চিত্র

 পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মঙ্গলবার থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর–এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বিএলও অর্থাৎ বুথ লেভেল অফিসাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা প্রত্যেক ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম দেবেন এবং তা পূরণ করতে সহায়তা করবেন। এই আবহে বিএলওদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের কাছে একাধিক দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন এই সংস্থার সদস্যরা।
নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখে সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, বিএলওদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রকাশ্য সভায় যাঁরা বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছেন বা হুমকি দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কোনও বিএলও হেনস্থার শিকার হলে তা সেক্ষেত্রেও অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে। সংস্থার তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় দুষ্কৃতীরা বারবার বিএলওদের হেনস্থা করছে।
বিশেষ করে মহিলা বিএলওদের টার্গেট করা হচ্ছে। মহিলা বিএলওদের জন্য মহিলা পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে সংস্থা। এছাড়াও নির্বিঘ্নে এসআইআর–এর কাজ সম্পন্ন করতে সংবেদনশীল বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি জানানো হয়েছে। সংস্থার তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বিএলওদের কাজ সহজ করতে তাঁদের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ডেটা প্যাক সরবরাহের করা হোক।
তাঁদের পারিশ্রমিকও যেন আগেই দিয়ে দেওয়া হয় সেই দাবি জানানো হয়েছে। যাতে তাঁরা কাজের সময় আর্থিক কোনও সমস্যায় না পড়েন। সংস্থা আশা প্রকাশ করেছে, কমিশন তাঁদের দাবি ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে।
সোমবার পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর–এর দিনক্ষণ ঘোষণার পর মঙ্গলবার থেকে এনুমারেশন ফর্ম ছাপা ও বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ৪ নভেম্বর থেকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কাজ শুরু করবেন বিএলও–রা। প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে তিনবার করে যাবেন তাঁরা।
এনুমারেশন ফর্ম ভোটারদের দিয়ে সেগুলি পূরণ করতে সাহায্য করবেন তারপর সেগুলি সংগ্রহ করবেন। গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিএলওদের এই কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন না হলে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় কর্মরত বিএলওরা ইতিমধ্যেই শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। সেই কারণে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ।