পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যেই থেকে ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা বোর্ড, সিবিএসই ও আইসিএসই পরীক্ষার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে মেধার অভাব নেই। বিশ্বের নানা প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলার পড়ুয়ারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমরা চাই সেই মেধা বাংলাতেই কাজে লাগুক।’
রাজ্য স্কুলশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। মঞ্চ থেকে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের উদাহরণ টেনে পড়ুয়াদের প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার কোনও বিকল্প নেই এবং সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে।
এদিনই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে ফের চালু করা হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’। তিনি জানান, ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে এই বৃত্তির সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা। শিক্ষাদপ্তরের মাধ্যমে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, এই প্রকল্প আগে চালু থাকলেও পরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনাচক্রে, একই দিনে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ধর্মীয় ভিত্তিতে দেওয়া একাধিক সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের কথা ঘোষণা করেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্বর্ধনা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু জানান, নতুন করে মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রকল্প চালু হবে।
নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী নারীশিক্ষার প্রসঙ্গও তোলেন। বিদ্যাসাগরের শিক্ষাভাবনা ও সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের শিক্ষাদর্শনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি জ্ঞানচর্চার দিকে এগোতে হবে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের নিয়মিত এপিজে আব্দুল কালামের বক্তৃতা শোনার পরামর্শও দেন তিনি।
রাজ্যের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির উদ্দেশেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ফলে সাধারণ পরিবারের উপর চাপ তৈরি হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে পড়ুয়াদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্যও তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে রাষ্ট্রবাদ, বহুত্ববাদ ও বৈদিক ভারতের মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, রাজ্যে আরও মেডিক্যাল কলেজ, আধুনিক হাসপাতাল, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিল্প গড়ে তুলতে চায় সরকার। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও উন্নত পরিকাঠামো তৈরি হলেই বাংলার মেধাবীরা রাজ্যেই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন।