এক দফা ভোটের আর্জি বাম-বিজেপির, বৈধ ভোটারের নাম বাদ নয়, দাবি তৃণমূলের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে কমিশন। সোমবার সকাল থেকেই সেই বৈঠক শুরু হয়। আর সেই বৈঠকে এক দফায় ভোটের দাবি জানাল সিপিএম, কংগ্রেস। একই দাবি জানিয়েছে বিজেপিও। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়েছে যেন কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।

সকালে প্রথমেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বিজেপির তরফে উপস্থিত ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিশির বাজোরিয়া জানান, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৬ এর নির্বাচন ভয় মুক্ত হিংসা মুক্ত করার জন্য ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে বিজেপি।কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায় পদ্ম শিবির। শিশির বাজোরিয়ার দাবি, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছলেও তাদের কার্যকলাপ চোখে পড়ছে না এবং অনেক জায়গায় রুট মার্চও হচ্ছে না। কমিশন যাতে বিষয়টি কড়া নজরে রাখে, সেই অনুরোধও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ওয়েব ক্যামেরা-সহ প্রয়োজনীয় নজরদারি ব্যবস্থা রাখার দাবিও তুলেছে বিজেপি। এছাড়া নির্বাচন খুব বেশি দফায় না করে এক বা সর্বাধিক দুই দফায় করার প্রস্তাবও কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।


এদিন বামফ্রন্টের প্রতিনিধিরাও নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাম প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলায় এক দফায় ভোটগ্রহণের দাবি তাঁরা কমিশনের কাছে জানিয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ দুই দফায় নির্বাচন হলেও তাঁদের আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেলিম আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত সেই প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের নতুন করে সুযোগ দেওয়ার কথাও কমিশনকে জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসের তরফে প্রদীপ  ভট্টাচার্য বলেন মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদকে টার্গেট করার কারণ কী তা জানতে চাওয়া হয়। এক দফায় নির্বাচনের আর্জি জানিয়েছে কংগ্রেসও। কিন্তু দফা বাড়ালেও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কথা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে কংগ্রেস। বিবেচনাধীন  ভোটারদের নাম আগে তুলতে হবে আর্জি জানিয়েছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও এদিন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ সংস্থা—এই বিশ্বাস তাঁদের রয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই বিশ্বাস প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও সেগুলির যথাযথ সমাধান করা হচ্ছে না।

এছাড়া ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭ সংক্রান্ত তথ্য বিভ্রাটের বিষয়টিও কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে কমিশন যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, সেই দাবিই বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।