বীরভূমের পলাতক ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের ঘটনার তদন্তে এবার সিউড়ির মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রবীর দাসকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সিউড়ির কল্পতরুপল্লিতে প্রবীর দাসের বাড়িতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি করার পর তাঁকে প্রথমে আটক করা হয়। তারপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে আদালত ৬ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। আর সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, প্রবীরের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাথর শিল্পাঞ্চলের ডিসিআর চেকিং গেটে কোন সরকারি কর্মী ডিউটি করবেন সেই দায়িত্বও প্রবীরের হাতে ছিল।
এদিকে টুলু মণ্ডল কাণ্ডের তদন্তে এবার বীরভূম জেলা পুলিশের নজরে অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সেহগাল হোসেন। গতকাল বেশি রাতে বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন সেহগালের আবাসনে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সেহগাল হোসেনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। নানা সময়ে তাদের মধ্যে একাধিক আর্থিক লেনদেনও হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকী সেহগালের আবাসনে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ ওই সূত্র ধরেই।
অন্যদিকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রবীর দাসের স্ত্রী সাথী দাসের দাবি, তাঁর স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। টুলুর সঙ্গে প্রবীরের কোনও যোগাযোগ নেই। বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে মাত্র ৮১ হাজার টাকা এবং কিছু জমির নথিপত্র পাওয়া গেলেও পুলিশ সেগুলির কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি। সাথী দাস বলেন, ‘পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করল? জানি না।’ আর বেশি রাতে এসডিপিও বোলপুর অর্পিত আর পারাখের নেতৃত্বে বোলপুর থানার পুলিশ সেহগালের আবাসনে অভিযান শুরু করে। এই তল্লাশিতে বেশ কিছু টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এমনকী টাকা গোনার জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে মেশিনও।
তাছাড়া টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিঠু শেখের বাড়িতেও শনিবার চলে তল্লাশি। গত ২৯ জুলাই বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু টুলুর খোঁজ এখনও মেলেনি। টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিঠু শেখের বাড়ি বোলপুরের খাসপাড়ায়। সেখানেও শনিবার হানা দেয় পুলিশ। তার আগে টুলু মণ্ডলের শ্বশুর বাড়িতেও হানা দেয় পুলিশ।