অবশেষে তারাতলা গুদামে নকসা হাতে পেল লালবাজার। ঘটনার পর মূল গ্রেপ্তারির সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিল একজন মিডলম্যান। তাঁর কাছ থেকেই মিলেছে গুদামের নীল নকশা। নকশাটি আদৌ সঠিক ছিল কি না এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন লালবাজারের বিশেষজ্ঞ দল।
পুলিশ সূত্রের খবর, এই নকশাতেই মিলবে আদৌ নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছিল কি না তারাতলার চায়ের গুদাম। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(অপরাধ দমন) কুণাল আগরওয়াল এদিন বলেন, ‘এই নকশার সই নিয়েই বিবাদ বেঁধেছিল। নকশাটি ফুল প্রুফ কি না, সেই মতামতই এখন দেবেন গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা।’
অন্যদিকে, গুদামের জমিটি কলকাতা বন্দরের কাছ থেকে কীভাবে নেওয়া হয়েছিল তার দিকেও নজর রয়েছে এই মামলায় গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমের। লালবাজার সূত্রের আরও দাবি, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় জেরায় অনেককিছুই গোপন করে যাচ্ছেন, যার মধ্যে এই নকশাও রয়েছে।
দালালের হাত ধরে ব্লিডিং প্ল্যানে সিলমোহর দেওয়ার ঘটনা কলকাতা পুরসভায় নতুন নয়। এর আগেও এই ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে। এক্ষেত্রেও একইভাবে দালালের হাত ধরে প্ল্যান পাশ করানো হয়েছিল—সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছে না সিট।
উল্লেখ্য, তারাতলার মর্মান্তিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন পেল সেই গোটা চক্রের পর্দাফাঁস করাই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য। প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে কারা যুক্ত ছিলেন, অনুমোদনের পর কোনও নজরদারি ব্যবস্থা ছিল কি না, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কতগুলি বেআইনি নকশা পাশ করানো হয়েছে, কালীচরণের কাছ থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে দু’টি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তিনি কার নির্দেশে কাজ করতেন এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এখন বিশেষ তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কাছে তারাতলার গুদাম সংক্রান্ত সরকারি নথিপত্র চাওয়া হলেও তা এখনও তদন্তকারীদের হাতে এসে পৌঁছয়নি।