অন্তর্বাস খুলিয়ে শিক্ষিকাদের যৌন হেনস্থা মহিলা স্কুলে, সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের

Sankrail Girls High School Photo-SNS

ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশনের পরীক্ষা চলছিল। এই পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের জন্য করা হয়েছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলার কথা। কিন্তু এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেই উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। শিক্ষিকাদের পোশাক খুলে অন্তর্বাসে হাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যা প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কেউ আপত্তি তুললে তাঁর অন্তর্বাসে জোর করে হাত দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। আর তল্লাশির অছিলায় এভাবেই যৌন হেনস্থা করা হযেছে বলে অভিযোগ উঠল সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলে। শিক্ষিকাদের দেহ তল্লাশির অজুহাতে রীতিমতো শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে। ওই হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে আসা বহু শিক্ষিকা এবার সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শিক্ষিকাদের এই অভিযোগ দায়ের হতেই গোটা কুকর্ম প্রকাশ্যে এসেছে। তা নিয়ে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে হাওড়ার সাঁকরাইল। মহিলা পরীক্ষার্থী যাঁরা শিক্ষিকাও তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগে কয়েকজন মহিলা বাউন্সার রীতিমতো তাঁদের পোশাক খুলে অন্তর্বাস পরা অবস্থায় তল্লাশি চালিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষায় টোকাটুকি ঠেকাতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষা শুরুর আগে পোশাক খুলে তল্লাশি করা হলে আপত্তি জানানো হয়। তারপরও সে কথা শোনা হয়নি। সরকারি হাইস্কুলের ভিতর বেসরকারি সংস্থার বাউন্সারদের কাজে লাগিয়ে এভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

এমনকী ওই শিক্ষিকাদের অভিযোগ, শুধু পোশাক খুলিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, রীতিমতো তাঁদের অন্তর্বাসও খুলে দেওয়া হয়। এমনকী এভাবে গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে অন্তর্বাস খুলিয়ে নগ্ন অবস্থায় ভিডিও পর্যন্ত করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এমন ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষিকাদের এভাবে অন্তর্বাস পরিয়ে তল্লাশি করানো যায় নাকি? উঠছে প্রশ্ন। এভাবে পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষিকাদের পোশাক খুলিয়ে অন্তর্বাসে হাত দিয়ে তল্লাশিতে বিরক্ত হন তাঁরা। এই ঘটনা নিয়ে সাঁকরাইল থানায় এফআইআর করেন শিক্ষিকারা।


তাছাড়া শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ পেয়েই হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা সংশ্লিষ্ট স্কুলে ছুটে আসেন। এই নিয়ে শিক্ষিকা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান তথা জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক দিলীপ কুমার সাহা জানান, এমন খবর তাঁরাও পেয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষাদপ্তর থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। শুধু শিক্ষিকারাই নন, শিক্ষকদেরও পোশাক খুলে তল্লাশি চালানো হয় বলে অভিযোগ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, তাঁদেরও জামা-প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হয়েছে।