দেশ থেকে মাওবাদী শেষ করার কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই মতো অপারেশন শুরু হয়েছিল ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়-সহ মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায়। একইসঙ্গে মাওবাদীদের মধ্যে যারা সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে চায় তাদের সাহায্য করার উদ্যোগও নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যান্য রাজ্যেও সেই কাজ চলছিল। পশ্চিমবঙ্গে এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার। সেখানেও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আর এবার বুধবার সকালে লালবাজারে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী বঙ্গ ব্রিগেডের সদস্য, সিপিআই (মাওবাদী)-র জোনাল কমিটির মহিলা সদস্য। তাঁর মাথার দাম ছিল ১০ লক্ষ টাকা। এই শীর্ষ মাওবাদী নেত্রীর আত্মসমর্পণ কলকাতা পুলিশের বড় সাফল্য হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা থেকে পালিয়েছিলেন মাওবাদী নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে পুষ্পা। কিন্তু এভাবে পালিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই আবহে বুধবার ৪৬ রাউন্ড গুলি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সহ কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন সারান্ডার জঙ্গলের ত্রাস। একাধিক মাও অপারেশনের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন শকুন্তলা মাহাতো। আত্মসমর্পণের পর তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের যাঁরা এখনও বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন তাঁরা চেষ্টা করুন মূলস্রোতে ফিরে আসার। এখনকার সরকার অনেক ভাল কাজ করছে। অস্ত্র ছেড়ে উন্নয়নে সামিল হওয়া সকলের জন্য মঙ্গলের।’
অন্যদিকে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থানার মেছুয়া গ্রামের মেয়ে শকুন্তলা মাহাতো। সমাজ থেকে অন্য পথে চলে গিয়েছিলেন। মনে করেছিলেন, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে সমাজ পরিবর্তন করবেন। মনে ছিল বিস্তর ক্ষোভ। অবহেলা, অবজ্ঞা এবং আর্থিক কষ্ট থেকেই মাওবাদী হয়েছিলেন শকুন্তলা। তারপর পরি, বর্ষা, পুষ্পা-র মতো একাধিক নাম ব্যবহার করে অপারেশন করেছিলেন। তিনি যে আত্মসমর্পণ করতে পারেন সেটা নিয়ে চর্চা চলছিল। মাত্র ১০ বছর বয়সে মাওবাদী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। মাওবাদী সংগঠনে গান-বাজনা করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন পুষ্পা। তারপর হাতে তুলে নিয়েছিলেন বন্দুক। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শকুন্তলাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।
তাছাড়া ২০০৩ সালে ঝাড়গ্রামে থাকাকালীন এরিয়া কমান্ডার অতুল মাহাতোর সঙ্গে পরিচয় হয় শকুন্তলার। ২০০৪ সালে ব্যাপক অপারেশনে যোগ দেন শকুন্তলা। ২০০৫ সালে ঝাড়খণ্ডের তামাড় জঙ্গলে অতুলের সঙ্গে বিয়ে হয় শকুন্তলার। তারপর সাংগঠনিক কাজে সিপিআই (মাওবাদী)-র ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি, ঝাড়খণ্ডের দলমা, ঘাটশিলা, গোটাশিলা, পারশনাথ পাহাড়, বুণ্ডু-তামাড়, সারান্ডা-সহ নানা জায়গায় কাজ করে এই মাওবাদী নেত্রী। জঙ্গলমহলে লালগড় আন্দোলনে কিষেণজির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ২০১২ সালের পর থেকে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেয়। অবশেষে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।