এবার কুণালের বাড়িতে রাজীব

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (File Photo: Twitter | @RajibBanerjeeWB)

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘােষের বাড়িতে গেলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে কুণালের বাড়িতে হাজির হন রাজীব। উভয়ের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলে। 

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে রাজীব পুরনাে সম্পর্ক ফের মেরামত করতে শুরু করেছেন। বাড়াতে চাইছেন সখ্যতা। যদিও বিধানসভা ভােটের আগে রাজীবকে তৃণমূল ধরে রাখতে দফায় দফায় বৈঠক করেছিল কিন্তু সেই বৈঠকে কোনও কাজ হয়নি। অনড় রাজীব বিজেপিতেই গিয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভা থেকে বেরােনাের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে বেরিয়েছিলেন।

যদিও তার পর তৃণমূলের সঙ্গে রাজীবের সংঘাত বাড়ে। তিনি বনমন্ত্রী থাকাকালীন নিয়ােগে দুর্নীতি হয়েছিল, এমনও অভিযােগ উঠে আসে। ডােমজুড়ে কল্যাণ ঘােষের কাছে পরাজিত হতে হয় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সম্প্রতি তিনিও বেসুরাে হয়েছেন।


শুভেন্দু অধিকারী ৩৫৬ দাবি করলেও রাজীব তার উল্টোপথে হেঁটে বিবৃতি দিয়েছেন। তবে কি তদন্তের ভয়ে রাজীব তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে চাইছেন? এ প্রশ্ন সাংবাদিকরা রেখেছিল রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে। যদিও এই নিয়ে ফিরহাদ মন্তব্য না করলেও তিনি বলেছিলেন, রাজীব আমার ভাইয়ের মতাে।

এদিকে ডােমজুড়ের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কল্যাণ ঘােষ দাবি করেছিলেন, তদন্তের মুখে পড়তে হবে, সেই ভয়ে রাজীব তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন। ওনাকে যেন দলে না নেওয়া হয়। কিন্তু ডােমজুড়ে কল্যাণ ঘােষ যে দাবিই করুক না কেন, আগামীর কথা ভেবে তৃণমূল পর্যায়ক্রমে বিজেপিতে চলে যাওয়া অনেক নেতাকেই দলে ফিরিয়ে নেবে বলে জানা যাচ্ছে। তবে, কয়েকজনের জন্য তৃণমূলে ফেরার পথ আপাতত বন্ধ। 

মুকুল রায় তৃণমূলে যােগদানের পরেই বীরভূমের মণিরুল ইসলাম থেকে শুরু করে অনেকেই তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফোন আসছে মুকুল রায়ের কাছে তৃণমূলে ফেরার আবেদন জানিয়ে। 

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছিলেন প্রথম মুকুল রায়। আবার সেই মুকুল রায়ই প্রথম বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুকুল আর যাই করুক না কেন, এক্ষেত্রে এক নম্বর হতে ভালােবাসেন। যদিও তিনি দলে মমতার পরে সেকেন্ড ম্যান ছিলেন।