ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।তাঁদের অভিযোগ, কমিশনের কিছু পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করে একপাক্ষিক আচরণ করছেন এবং এর ফলে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, নির্দিষ্ট এক পুলিশ অবজারভারকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। তাঁর কথায়, ওই পর্যবেক্ষকের সরকারি নির্ধারিত আবাসনের বাইরে অন্যত্র থাকার পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভিডিও সামনে এনে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের কর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের বৈঠক রাতের অন্ধকারে হয়েছে এবং তাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা কিছু পর্যবেক্ষকরাও অভ্যন্তরীণভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ তোলার জেরে একজন আইএএস আধিকারিককে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।
অন্যদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্য, সময় যত এগোচ্ছে, কমিশনের কিছু পদক্ষেপ ততই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু পর্যবেক্ষক বিজেপির হয়ে কাজ করছেন এবং যাঁরা প্রতিবাদ করছেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজ্যে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি, দাবি করেন এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করছে।
কুণাল ঘোষও একই সুরে বলেন, ভোটের আগে অযথা ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এতসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিজেপি জনসমর্থন পাচ্ছে না এবং তৃণমূলই বিপুল আসনে জয়ী হয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরবে।