তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল কৃষ্ণনগর আদালত। অপারেশন সিঁদুর এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করেছে আদালত। কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস বুধবার এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই মামলায় একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও মহুয়া মৈত্র আদালতে হাজির হননি বলেই অভিযোগ। তাই শেষ হাজিরার দিনে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এদিকে একটি সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনী এবং অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই কৃষ্ণনগরের এসিজেএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নদিয়ার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দে গত ১৩ মে এই মামলা দায়ের করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও বিতর্কিত এবং অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। মহিলাদের তুলসী মালা, বোরখা এবং হিজাব পরানো নিয়ে তাঁর কিছু বিত্র্কিত মন্তব্যে রয়েছে। এসবের প্রেক্ষিতেই কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ দে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলাকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানান, আগে একাধিকবার সমন জারি করা হয়েছিল সাংসদ মহুয়ার বিরুদ্ধে। তাঁকে কৃষ্ণনগর আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। যদিও তিনি একদিনও আসেননি।
অন্যদিকে বারবার নির্দেশ অমান্য করার জেরেই শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণনগর আদালত সাংসদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়। কৃষ্ণনগরের সাংসদ প্রতিবাদের মুখ। সংসদের ভিতরে এবং বাইরে প্রতিবাদ করে থাকেন। ভাল বক্তাও তিনি। সেখানে এমন কাণ্ড মহুয়া কেমন করে করলেন? উঠছে প্রশ্ন। মামলাকারী আদালতে বলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী সারা বিশ্বের কাছে গর্বের। আর তাঁদের নিয়ে মহুয়া মৈত্র অপারেশন সিঁদুরের নামে সাংবাদিকদের কাছে যে মন্তব্য করেছেন সেটারই প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ করেছেন তিনি। মহুয়ার মন্তব্যের জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করা, নানা গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব উস্কে দেওয়া, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা, ভয় দেখানো এবং ঘৃণা ভাষণের উপযুক্ত ধারা যোগ করা হয়েছে এই মামলায়। আর এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় চাপে পড়লেন সাংসদ বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া কয়েক সপ্তাহ আগে ডিম ছোঁড়া নিয়ে দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর আর্জি শুনতে অস্বীকার করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আবার কদিন আগে অন্য একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তারপর কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে রাত কাটানোর সময় সেখানে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।