ভাঙা পাঁজর নিয়েই নিট দিলেন কলকাতার সৃষ্টি, পাশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

Image: ANI

ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েও স্বপ্নকে হার মানতে দেননি কলকাতার পরীক্ষার্থী সৃষ্টি দুবে। ভাঙা পাঁজর, ফুসফুসে আঘাত এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও তিনি রবিবারের নিট পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেন ঢাকুরিয়ার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায়। নজিরবিহীন এই মানবিক উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের হস্তক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
গত ১৪ জুন একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন সৃষ্টি। শরীরের একাধিক পাঁজর ভেঙে যায় এবং তাঁকে দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখতে হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতির পরেও চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবু চিকিৎসক ও পরিবারের সাহায্যে এবং কেন্দ্রীয় স্তরে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে তিনি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পান।
ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুলে তাঁর জন্য আলাদা একটি কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে শুয়েই পরীক্ষা দেন সৃষ্টি। তাঁর চিকিৎসার জন্য উপস্থিত ছিল ডাক্তার ও প্যারামেডিক্যাল টিম। স্কুল চত্বরে রাখা হয় স্ট্যান্ডবাই অ্যাম্বুলেন্সও, যাতে কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বিষয়টি জানতে পেরে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন এবং পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ অনুমোদনের ব্যবস্থা করেন। তিনি ফোনে সৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাঁকে সাহস জোগান। পরে তিনি জানান, সৃষ্টির মতো শিক্ষার্থীদের লড়াই দেশের জন্য অনুপ্রেরণা।
সৃষ্টির বাবা জানান, মেয়ের এমন অবস্থায় পরীক্ষায় বসা প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সহায়তা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। সেই অনুযায়ী স্কুল ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যবস্থা করা হয়।
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় সৃষ্টির অন্তত নয়টি পাঁজর ভেঙে যায় এবং ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাস্কুলার সার্জারি এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তিনি সুস্থতার দিকে এগোচ্ছিলেন। এই অবস্থায় শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাঁর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নই তাঁকে পরীক্ষা দিতে অনুপ্রাণিত করে। শারীরিক প্রতিকূলতা জয় করে সৃষ্টির এই লড়াই এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।