ফাঁদ পেতে বসে আছে লক্ষ জালিয়াত। একটু অসাবধান হলেই বাড়ছে বিপদ। হোয়াটস অ্যাপ বা মোবাইল ফোনের মেসেজ এ লিংক পাঠিয়ে পাতা হচ্ছে ফাঁদ। পা দিলেই নিঃশেষ হচ্ছে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। এই অভিযোগ নতুন নয়, তবুও বার বার বলা সত্ত্বেও এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন শ’য়ে শ’য়ে মানুষ। কেউ টাকা পাবার আশায় আবার কেউ টেলিফোনের অপর প্রান্তে থাকা প্রতারক কে বিশ্বাস করে ঠকছেন অবিরাম। একই ঘটনা ঘটল দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে। কে ওয়াই সি’র নামে প্রায় ২ লক্ষ টাকা খোয়ালেন এক ব্যক্তি। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নিঃশেষ হয়ে যাবার পর এখন পুলিশের দ্বারস্থ তিনি।
‘ আমার কাছে একটি ফোন আসে, আমাকে বলা হয় আমার কে ওয়াই সি আপডেট করতে। আমি যেই পাঠানো লিংক এ ক্লিক করি আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা শুরু করে প্রতারকরা।’ জানালেন প্রতারতি বিকাশ কুন্ডু। তাঁর অভিযোগপত্রে তিনি আরও বলেছেন প্রথমে অল্প টাকা খোয়া যায় পরে সব মিলিয়ে এক লক্ষ ৮১ হাজার ৪৫৩ টাকা তুলে নেয় অভিযুক্ত প্রতারকরা। এই ভাবেই সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন তিনি। জমানো টাকা শেষ করেছে প্রতারকরা। শুধু নেতাজি নগর থানায় নয়, তিনি নিরুপায় হয় ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমে পোর্টাল এও এই অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে এখনও এই মামলার সুরাহা হয় নি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বার বার সতর্ক করছে যাতে কেউ এই ধরনের ফাঁদে পা না দেন। কারণ এই প্রতারকরা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে একাধিক ফন্দি এটে ঘুরে বেড়ায়। যে ফোন নম্বর থেকে ফোন আসে সেগুলো সবই আনরেজিস্টার্ড সিম কার্ড থেকে। ফলে লোকেশন ট্র্যাক করা সহজ হয় না। আবার লোকেশন ট্র্যাক করা গেলেও ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে অর্ধেক অভিযোগ চাপা পড়ে যায়।
কলকাতা পুলিশ সাইবার আপরাধ দমনে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে তা বাস্তবায়িতও করার কাজ চলছে, কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু এখনও বাকি আছে। ফলে বার বার নাগরিকদের সাবধান হতে বলা হচ্ছে। অপরদিকে এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা এতটাই বেশি যে ইতিমধ্যে গত ৬ মাসে এই সংখ্যা হাজারেরও বেশি হয়েছে। যা খুবই সংকটজনক বলে মনে করছে লালবাজার।
এটা গেলো কলকাতার চিত্র রাজ্যের চিত্র আরও ভয়ানক। সিআইডির এক শীর্ষ কর্তার কথায় গত ৫ বছরে কয়েক হাজার এই ধরনের মামলা হয়েছে। কিছু মামলার নিষ্পত্তি হলেও এখনও অধিকাংশই বাকি। তার কারণ হলো এই ধরনের গ্যাং এর সঙ্গে যারা জড়িত তারা রীতিমতো ৮ ঘাট বেঁধে কাজ করে। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্ট এ টাকা লেনদেন হলে তা সনাক্তকরণে সুবিধা হয় কিন্তু ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে টাকা দেওয়া নেওয়া করে প্রতারণা করলে তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে আগামী দিনে সব প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এ সমস্যারও সমাধান হবে।