নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের সর্বস্তরে কড়া ভাবে আইন মেনে কাজ করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই আবহেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দ শহরের সমস্ত জয়েন্ট সিপি, ডিসি এবং ওসিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন। বৈঠকে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, পাচার রোধ এবং মহিলা-শিশু নিরাপত্তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি নিয়ম ভেঙে কোথাও লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। অনুমতি ছাড়া শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরজুড়ে হেলমেট পরে বাইক চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের অভিযান, উদ্ধার এবং আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট থানাগুলিকে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে শীর্ষ স্তরেও পাঠানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বৈঠকে পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এফআইআর নথিভুক্ত করতে কোনও দেরি করা যাবে না। অভিযোগ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেআইনি অস্ত্র, বোমা এবং বিস্ফোরক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পাচার রোধে কড়া নজরদারি এবং মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের।
প্রসঙ্গত, সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের কাজ সরকারের মতো করুন। সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে। মাথা উঁচু করে কাজ করুন। ভয় পাবেন না।’
এরপর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালও আমলাদের উদ্দেশে একই ধরনের বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘শিঁড়দাড়া শক্ত করে কাজ করুন। দায়িত্ব পালন করতে গেলে মাথা নত করার প্রয়োজন নেই।’
ফলে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের উপরের স্তর থেকে কড়া ভাবে নৈতিকতা এবং আইনের পথে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।