ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। একদিন আগেই নিজে এই কথা ঘোষণা করেছেন। আর তা নিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই আবহে আবার চালু হতে চলেছে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। টানা দু’বছর এই পরিষেবা বন্ধ ছিল। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আর তারপরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যখন অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল তখন থেকে নানা পরিষেবা বন্ধ হয়ে রয়েছিল। টানা দু’বছর বন্ধ থাকার পর দুই বাংলার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে পদ্মাপারে একটা অন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার কথা ঘোষণা করতেই তা ওপারের সংবাদমাধ্যমগুলি সম্প্রচার করে। সমাজমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। আর তারপরই শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বাংলাদেশ সরকার। যদিও সরাসরি এই ব্যাপারে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি রায়ের উল্লেখ করে তারেক রহমানের সরকার সংবাদমাধ্যমগুলিকে মনে করিয়ে দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওপার বাংলায়।
অন্যদিকে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হওয়া নিয়েও পদ্মাপারে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কবে থেকে তা চালু হচ্ছে? এই প্রশ্ন করছেন অনেকেই। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। রেলমন্ত্রক থেকে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে লিখিতভাবে এই ট্রেন চালু করা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আর বিএসএফের সবুজ সংকেত মেলার পরই মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে বলে সূত্রের খবর।
তাছাড়া অনুপ্রবেশ পশ্চিমবঙ্গে বড় ইস্যু। তার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে। ওপার থেকে অবৈধ পথে এপারে ঢুকলেই ডিটেক্ট ডিলিট ডিপোর্ট করা হবে। এই বিষয়ে কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারীকে ওপার বাংলায় পাঠানো হয়েছে। এই আবহে চালু হতে চলেছে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ওপার বাংলায় ধারাবাহিকভাবে হিংসার ঘটনা ঘটতে থাকে। তার জেরে মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার জায়গায় ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। তারপর থেকেই দুই পড়শি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করেছে।