কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ। একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্বামী সলিল চট্টোপাধ্যায়কেও। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ জুন সুস্মিতা ভট্টাচার্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের পর মঙ্গলবার তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ, এক প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো এবং চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও তোলাবাজি, কোথাও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আবার কোথাও পুরনো মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সক্রিয় হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রবিবার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমুদ্দিনকে গ্রেফতার করে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল।
এছাড়াও কলকাতা পুরসভার আরও কয়েকজন কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল, ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুদীপ পোল্লে, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিংহ, ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশকুমার শর্মা।
পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে এবং প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।