খেজুরিতে ৬০টির বেশি দোকানে আগুন, বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ অভিষেকের

নিজস্ব চিত্র

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা শানিয়ে দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, খেজুরির নিচকসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিজলি শরিফ এলাকায় যা ঘটেছে, তা ‘বর্বরতার সামিল’। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ৬০টিরও বেশি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের জীবিকা ধ্বংস হয়ে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, আগুন লাগানোর ঘটনায় হিন্দু বা মুসলিম— কোনও সম্প্রদায়কেই আলাদা করে নিশানা করা হয়নি। বরং বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে আতঙ্কে ভোগেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘এটাই বিজেপির প্রকৃত রাজনীতি। ঘৃণা, ভয় দেখানো এবং ধ্বংসের রাজনীতি করে বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলা এই হিংসার কাছে মাথা নত করবে না।’ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, গোগ্রাম-১ ব্লকের নোকুন্দা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যের স্বামী সহদেব বাগের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স ৪০ বছর বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

যদিও বিজেপির তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছে তারা।

খেজুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।