নির্বাচনের আগে খড়গপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের একাধিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ করেই আবারও জয়ের পথে এগোচ্ছে তারা।
খড়গপুরে প্রচার শুরু করে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, তিনি সারা বছরই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। নির্বাচনী প্রচার তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
তবে তৃণমূলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের বক্তব্যে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন না। কারণ, বাস্তবে উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে রাজ্যের শাসকদল। দিলীপ ঘোষ প্রতিপক্ষকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তাঁর জয়ের রেকর্ড ভালো। কিন্তু তৃণমূলের পাল্টা দাবি, খড়গপুরে মানুষের সমর্থনই শেষ কথা বলবে এবং সংগঠনই এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি।
নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গেও বিজেপি নেতার মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রাজ্যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং মানুষ সেই উন্নয়নকেই সমর্থন করবে। নিয়োগ ও দুর্নীতি নিয়ে বিজেপির আক্রমণের জবাবে তৃণমূল জানিয়েছে, আইন আইনের পথেই চলবে এবং কোনও অন্যায়কে দল প্রশ্রয় দেয় না। বরং উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প এবং মানুষের পাশে থাকার রাজনীতি নিয়েই তারা ভোটে নামছে।
উত্তরবঙ্গে বিজেপির বাড়তি সুবিধার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের মতে, উত্তর থেকে দক্ষিণ— গোটা বাংলাতেই মানুষের সমর্থন রয়েছে তৃণমূলের পক্ষে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খড়গপুরে মূল লড়াই হবে উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতির রাজনীতির মধ্যে, যেখানে তৃণমূল নিজেদের কাজের ভিত্তিতেই এগোতে চাইছে।