রাজ্য বাজেটেই উল্লেখ করা হয়েছিল, শহর থেকে শহরতলি এবং শিল্পাঞ্চলে মেট্রো পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলে সেই পদক্ষেপ করা হবে। বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেটে এই বিষয়টি দেখে অনেকেই আষাঢ়ে গল্প বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু সেটা যে বাস্তবে কতটা সত্যি তা বোঝা গেল সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজ্যে একের পর এক রেলের প্রকল্প হবে। এবার নোয়াপাড়া-ব্যারাকপুর মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ কেমন করে হবে তার জন্য আইআইটি খড়গপুরকে দিয়ে সমীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই মেট্রো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জমি জট এবং কলকাতা পুরসভার একাধিক জলের পাইপলাইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ফলে ব্যারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণ বেশ কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাধা সরিয়ে কেমন করে মেট্রোকে শিল্পাঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া যায় সেই সমীক্ষার কাজটাই করবে খড়গপুর আইআইটি। কারণ পলতা থেকে টালা পর্যন্ত বিটি রোড জুড়ে মাটির তলা দিয়ে ৬টি পানীয় জলের পাইপলাইন গিয়েছে। এগুলি সব কলকাতা পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের পাইপলাইন। সেখানে আঘাত লাগলে জল সংকটে পড়বেন এলাকাবাসী। তবে সমস্যা এখানেই শেষ নয়, এই পথে বেশ কয়েকটি নিকাশি পাইপ এবং ইলেকট্রিক লাইনের পাইপও আছে।
অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে বাধাগুলি কাটিয়ে জমি জট মিটিয়ে মেট্রো ব্যারাকপুর পর্যন্ত কেমন করে ছুটবে সেটা সমীক্ষা করে দেখবে খড়গপুর আইআইটি। এখানের বিশেষজ্ঞরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবেন। আর তারপরই সেভাবেই শুরু হয়ে যাবে কাজ। আর ব্যারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা পৌঁছে গেলে শহর, শিল্পাঞ্চল এবং শহরতলি পৌঁছনো মুহূর্তের মধ্যে করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থানও গড়ে উঠবে। যদিও বিষয়গুলির ক্ষতি না করে খড়গপুর আইআইটির বিশেষজ্ঞরা সমীক্ষা করে সবুজ সংকেত দিলেই শুরু হবে সম্প্রসারণের কাজ।
তাছাড়া মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, নোয়াপাড়া থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার বিস্তৃত পথ রয়েছে। এই মেট্রো পথে মোট ১০টি স্টেশন থাকবে। প্রস্তাবিত এই রুটে বরানগর মেট্রো স্টেশন থেকে ডানলপ মোড়ে ইন্টারচেঞ্জ হবে। আর কামারহাটি, আগরপাড়া, সোদপুর, পানিহাটি, সুভাষনগর, খড়দহ, টাটা গেট, টিটাগড়, তালপুকুর এবং ব্যারাকপুরে গিয়ে শেষ হবে। এই বিষয়ে মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নান বলেন, ‘বিটি রোডে জলের পাইপ আছে, সেই পাইপকে রেখেই কেমন করে মেট্রোর কাজ হবে তা আইআইটি খড়গপুর সমীক্ষা করছে। তারা সবুজ সংকেত দিলেই মেট্রো প্রকল্পের কাজ এগোবে আরভিএনএল। আমরা চাই জল বন্ধ না করে কাজ করতে।’