‘স্টলে যদি দুর্গাপুজো লেখা না থাকে তবে আমি স্টল ভাঙব’, বামেদের নিশানা বিজেপি বিধায়কের

Karandighi BJP MLA Biraj Biswas Photo-SNS

সিপিএমের লাল শালুতে মোড়া বুক স্টলে শুধুই পাওয়া যায় কার্ল মার্কস, লেলিনের বই। সেখানে মেলে না বিবেকানন্দ, স্বামী প্রণবানন্দের কোনও বই। এবার যদি স্টলে দুর্গাপুজো লেখা না থাকে তাহলে স্টল করতে দেওয়া হবে না। শুধু দুর্গোৎসব লেখা থাকলে হবে না। এই কথাগুলি বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পিছনে একটা যুক্তি ছিল। কিন্তু এবার বিজেপি বিধায়ক যে হুঙ্কার দিলেন তাতে বর্ষার দিনে সরগরম হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি। রবিবার সরাসরি সিপিএম তথা বামেদের বুক স্টল নিয়ে নিশানা করলেন বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস।

এই হুঙ্কারের পর আদৌ কি বুক স্টল করতে পারবে বামেরা? উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাতে আরও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সুতরাং দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বুক স্টল রাজনীতি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস বামেদের নিশানা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দুর্গাপুজো না লেখা থাকলে তিনি নিজে বামেদের স্টল ভেঙে দেবেন। তাতেই চর্চা উঠেছে তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন যাতে রাজ্যে সনাতনী পরিবেশ বজায় থাকে। আর দুর্গাপুজোর সময় শারদোৎসব লেখা না থাকা উচিত। কারণ গোটা শরৎকাল জুড়ে বামেরা বুক স্টল দেয় না। তাই দুর্গাপুজো লেখাই শ্রেয়। তিনি স্টল ভাঙার কথা বলেননি।

কিন্তু বিজেপি বিধায়কের এমন হিংসাত্মক মন্তব্য রাজ্যের মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এতে শাসকদলের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে। করনদিঘির বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাসের বামেদের বুক স্টল নিয়ে বক্তব্য, ‘যাঁদের কাছে ধর্মের কোনও মানে নেই, তাঁরা কেন স্টল দেবে? ওরা তো ধর্মকে আফিম মনে করে, তাদের জন্য তো পুজো নয়। স্টল দেওয়ার দরকার নেই। আর স্টলে যদি দুর্গাপুজো লেখা না থাকে তাহলে সেখানে গিয়ে আমি স্টল ভাঙব।’


সিপিএম অবশ্য এই হুঙ্কারে ভীত নয়। তারাও পাল্টা জবাব দিয়েছে। তার জেরে রাজ্য-রাজনীতিতে একটা উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে যেখানে সৌভাতৃত্বের বাতাবরণ তৈরি হওয়ার কথা সেখানে হিংসার কথা একেবারে বেমানান। যদিও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের পাল্টা জবাব, ‘জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেসও এমন কথা বলেছিল। কিশোর কুমারের গান চলবে কিনা সেটা সঞ্জয় গান্ধী ঠিক করে দেবেন। আমরা রুখে দাঁড়াব। এরপরও যদি আইনের শাসন রাজ্যে না থাকে তাহলে তার দায় মুখ্যমন্ত্রীকে নিতে হবে।’