তিক্ততা ভুলে হাসি-আড্ডায় একসঙ্গে কল্যাণ-মহুয়া

একসময় সংসদের অন্দরেই প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন তাঁরা। তৃণমূলের দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রের দ্বন্দ্ব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছিল তীব্র চর্চা। সেই বিতর্ক এতটাই দূরে গড়ায় যে মহুয়ার সঙ্গে বচসার পর সংসদীয় দলের চিফ হুইপের পদ ছেড়ে দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তবে সেই তিক্ত অধ্যায় এবার অতীত বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

রবিবার এক বিয়েবাড়িতে তৃণমূলের এই দুই হেভিওয়েট সাংসদের পুনর্মিলন নজর কাড়ল সকলের। হাসিমুখে একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে, খোঁজখবর নিতে এবং পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেল কল্যাণ ও মহুয়াকে। সেই মুহূর্তের ছবিই পরে নিজে ফেসবুকে পোস্ট করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাতেই নতুন করে শুরু হয় রাজনৈতিক মহলের আলোচনা।

দিনটি ছিল তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাইয়ের কন্যার বিবাহ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন দলের একাধিক সাংসদ। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানাতে হাজির হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র-সহ তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতারা। সেখানেই কল্যাণ ও মহুয়ার হাসি-আড্ডা সবার নজর কেড়ে নেয়।

ফ্যাশনের দিক থেকেও মহুয়া মৈত্র এদিন আলাদা করে চোখে পড়েন। তবে সাজের থেকেও বেশি আলোচনায় আসে শ্রীরামপুর ও কৃষ্ণনগরের দুই সাংসদের আন্তরিক মুহূর্ত। একসময় পরস্পরের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্যে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। ‘নারীবিদ্বেষী’ থেকে শুরু করে ‘মুখ দেখলে দিন খারাপ’— এমন কথাবার্তাও শোনা গিয়েছিল দু’পক্ষের তরফে। সেই সব তিক্ততা ভুলে ফের সখ্যের ছবি উঠে এল সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়েতে।