কমিশনের অধিকার নিয়ে আদালতে প্রশ্ন কল্যাণের

ভোট ঘোষণা হতেই রাজ্যে একের পর এক আমলা, পুলিশ কর্তাকে অপসারণ করছে কমিশন। তাঁদের মধ্যে অনেককেই ভোটের কাজে পাঠানো হচ্ছে ভিনরাজ্যে। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। আদালতে কল্যাণ জানান, রাজ্যের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই আইপিএস, আইএএসদের বদলি করা হয়েছে। এভাবে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার নেই নির্বাচন কমিশনের। এই মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পার্টি করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে।

বঙ্গে ভোট ঘোষণার দিনই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক পুলিশ কর্তাকে সরায় কমিশন। এমনকী, কলকাতা পুলিশ কমিশনার, ডিজি-সহ একাধিক জেলার পুলিশ সুপারকেও রাতারাতি বদল করা হয়। সরানো হয়েছে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি এবং জলপাইগুড়ির রেঞ্জের ডিআইজিকে। শুধু সরানোই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত নিয়োগ করা যাবে না। অভিযোগ, রাজ্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেও বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের রাতারাতি সরিয়ে দিয়ে ভিনরাজ্যে পাঠানোয় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে আশঙ্কা করে হা‌ইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হবে।

এই মামলায় হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের আইএএস, আইপিএস-দের অন্য রাজ্যে পাঠানোয় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। রাজ্যে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হলে তা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে।