তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে একপ্রকার দ্বন্দ্ব নজরে পড়েছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি ইতিমধ্যেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়েছেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সাংগঠনিক পদ ছাড়লেও দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

চিঠিতে কাকলি জানিয়েছেন, তিনি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি নাম না করেই দলের এক সাংসদের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, একজন মহিলা সাংসদের প্রতি অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে পদে থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

শুধু তাই নয়, আরজি কর ঘটনা, রেশন দুর্নীতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই সমস্ত ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইপ্যাক নিয়ে নানা মহলে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রভাব বিস্তার করে, তা দলের ঐতিহ্য ও আদর্শের ক্ষেত্রে শুভ হতে পারে না। এর আগেও দলীয় পদ থেকে সরানোর পর সমাজ মাধ্যমে তিনি দলের কিছু নীতি এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।


সম্প্রতি, তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে এর দায়িত্ব দেওয়া হল। দলের এই সিদ্ধান্তের পর সমাজ মাধ্যমে তৃণমূল সাংসদ তাঁর অভিমান ব্যক্ত করেছিলেন। এরপর গত রবিবার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিজের এলাকায় দলের চরম বিপর্যয়ের ও খারাপ ফলের নৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েই পদ ছাড়ছেন।

আবার মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলির উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছিল। এবিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসন সবার, এটা কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়।’ তিনি প্রশাসনিক আমন্ত্রণেই সেখানে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁর সাম্প্রতিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আবার নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল।