‘মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম!’ বার্তা দিলেন কাকলি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি মানুষ চিনতে ভুল করেছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চাইছেন? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

শুক্রবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে এনসিপিআই-এর সাংসদরা প্রাতরাশ সারেন। এনডিএ-র অন্যান্য শরিক দলগুলির সাংসদদের পাশাপাশি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পোস্ট দেখা গেল।

প্রথম পোস্টে কাকলি লিখেছিলেন, ‘মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম। একটাই তো জীবন, ধ্বংস হয়ে গেল।’ কিছুক্ষণের মধ্যে সেই পোস্ট এডিট করে তিনি লেখেন, ‘চল্লিশ বছর ধরে মানুষ চিনতে এত ভুল করলাম। একটাই তো জীবন, জীবনটা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছিল।’ এই পোস্ট করে কাকলি আদতে কাকে বা কাদের নিশানা করলেন? তিনি কি ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কালীঘাটপন্থীদের দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন, নাকি এনসিপিআই সদস্যদের মধ্যের কাউকেই বিঁধলেন?


এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এনসিপিআই-এর দুই সাংসদ খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের। তাঁরা বলেন, লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত তাঁদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই ডাকছেন। যখন তাঁরা সংসদে বক্তব্য পেশ করছেন, তাঁদের নামের পাশে এআইটিসি-র নামই উল্লেখ করা থাকছে। কাগজে-কলমে এনসিপিআই এখনও এনডিএ-র আনুষ্ঠানিক শরিক নয়।

শুক্রবার প্রাতরাশ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী এনসিপিআই সাংসদদের আশ্বাসবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ‘এনডিএ হল একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার। আমরা প্রতিটি শরিক দলের পাশে রয়েছি। কোনও একক দলের কথা নয়, এনডিএ-র প্রতিটি সাংসদের সঙ্গেই আমি ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়িয়ে আছি। আপনাদের কোনও বিষয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, প্রত্যেকেই উপযুক্ত সম্মান ও কাজের সুযোগ পাবেন।’ বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি সাংসদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন এবং তাঁদের শারীরিক ও রাজনৈতিক খবরাখবরও নেন।