২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হল নতুন অধ্যায়ের। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিপুল জনসমাগমের মাঝে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান শেষ করেই তিনি পৌঁছে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির অন্যান্য নেতারা যেমন- তমোঘ্ন ঘোষ, বিঝড় ওঝা, সন্তোষ পাঠক, দলের নেত্রী মীনা দেবী পুরোহিত সহ প্রমুখ। রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মাল্যদান করে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ বাকি নেতারাও।
জোড়াসাঁকোয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতির বিকাশ কবিগুরুর ভাবনা ও আদর্শের পথ ধরেই হবে।’ রাজনীতির সংঘাত নয়, এখন বাংলার নবজাগরণ ও শুভবুদ্ধির সময় বলেও বার্তা দেন তিনি। কোনও প্রকার রাজনৈতিক তিক্ততা বা বিতর্কিত মন্তব্যে না গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত সংযত কণ্ঠে শুভেন্দু বলেন, ‘আমি এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি এখন সকলের। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’
এদিন শুভেন্দু আরও বলেন, ‘বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন সরকারের লক্ষ্য।’ জোড়াসাঁকোয় দাঁড়িয়ে তিনি বাংলার পুনর্গঠনের ডাক দেন। তাঁর কথায়, ‘এখন অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এখন একে অপরের সমালোচনার সময় নয়। যারা সমালোচনা করতে চাইছে করুক। তাঁদের চৈতন্য উদয় হোক।’ এরপর স্বামী বিবেকানন্দকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন শুধু এগিয়ে যাব। আমাদের একটাই মন্ত্র চরৈবতি চরৈবতি।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগকে সামনে এনে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়কেও গুরুত্ব দিতে চাইছে নতুন সরকার।
শপথের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা এবং যোগী আদিত্যনাথের সম্ভাষণ গ্রহণের পর তাঁর জোড়াসাঁকো সফর রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিজেপির বিপুল জয়ের পরও সংযত সুরে ঐক্যের বার্তা দিয়ে তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
এদিনের শপথ অনুষ্ঠান রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই আয়োজন করার পিছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ ইচ্ছা ছিল বলেও জানান নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শপথের পর কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানিয়েই তাঁর প্রথম সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজ্য রাজনীতি।